Showing posts with label নির্বাচিত. Show all posts
Showing posts with label নির্বাচিত. Show all posts

Saturday, July 3, 2010

বহুদিনপরলিপি: পোমো নিরীক্ষা, ন্যানোগল্প আর শব্দচাষ

১.
কলম কি-বোর্ড জাপটে বসে থাকি চুপচাপ। যদি লেখা বেরোয়। অ্যাদ্দিন যা লিখেছি, তা নাকি ফেসবুক স্ট্যাটাস। না লিখতে লিখতে, আরবিতে যাকে বলে, আল-কাতিব কুতালাহ। সাবটাইটেল করলে, রাইটার্স ব্লক। খাঁটি বাংলায়, দোহাই।

এসো তবে ব্লক কাটাই।

ব্যস্ততম দিনশেষে ক্লান্তির কথা বলা একঘেয়ে। একঘেয়েমির কথা বলাও ক্লান্তিকর। ঢং শেষে সঙের কান্না কে দেখতে চায়?

ফলে ৭২০ ডিগ্রি পাক খেয়ে আমাদের ক্লান্ত সিনেমা ঘুমিয়ে পড়ে ক্যানের ভেতর, সেলুলয়েড ফিতার কুণ্ডলি পাকিয়ে। সিনে ফেস্টিভ্যাল থেকে সাড়া নেই। মরণোত্তর জীবনে যদি ডাক টাক পাই। তাই ঐশ্বরিয়া রাই কুড়ায়, আর আমি বেল।

ছাদে ছাদে বাঁধা আর্জেটিনা জার্মানি ব্রাজিল ইংল্যান্ড। কোরবানির গরুর মতো। বাতাস এলে  উত্তেজনায় উড়তে হয় তাদের। দৃশ্যত। একে বলে প্রফেশনালিজম।

আর মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত ব্যাঙ ডুব দেয়। এর নাম অভিজ্ঞতা।



২.
ঘরজুড়ে অনেক ভেড়া। সম্ভবত আপনি একটা সস্তা ন্যানোগল্পে ঢুকে পড়েছেন। ভেড়াগুলো ডিগবাজি খাচ্ছিল। শেষে লজ্জার মাথা খেয়ে নেতা ভেড়াটা বললো, চটপট গুনে ফেলুন তো আমাদের। আমি তখন ঘুমে। সবাই চিৎকার : কী হলো, অনেক তাড়া আমাদের, জলদিইইই। ঘুম গাঢ় হয় আমার।

আগের গল্প থেকে বেরিয়ে গেলেন।

আরেকটায় লগইন করুন : নিজ কবিতা ছাপতে হলো জীবনানন্দ দাশ নামে। ব্র্যান্ডের কী জাদু, মাথা নাড়ে সে। বাংলাবাজার জনজটে হারিয়ে যায়, স্বনামেই।

তিন : চুল ছিড়ে খাবারে ঢুকাই। তর্ক জুড়ি ওয়েটারের সঙ্গে, এটা কী? নতুন প্লেট আনতে বলে ম্যানেজার। মুচকি হেসে মাথার উপর ক্লোজড-সার্কিট ক্যামেরাটা দেখায়।

চার : আই লাভ ইউ জান। বলেই মেয়েটা কাঁদতে থাকে। কোলে কুকরছানাটা। নিথর।

পাঁচ : মন্তব্যের প্রতীক্ষায় ক্লান্ত ব্লগার ভাবে, ছেড়েই দেবে লেখালেখি। সেদিনই প্রথম মন্তব্য আসে। ভীষণ খুশি হয় সে। হোক না স্প্যাম।

ছয় : মেয়েটা ব্যস্ত হয় কৃষিকাজে; ফেসবুকে। ছেলেটা এটা-সেটা ব্রাউজ। তারপর টুপ করে অফলাইন। মেয়েটা টের পায় না।

৩.
নাহ, ঠিক জমছে না গাঁথুনি।
আরও অপ্রত্যাশিত মোচড় প্রত্যাশিত।

মোচড় ঢোকালে ন্যানোগল্প হয় মানুষ। মেধাবীরা টেমপ্লেট। নিজের পেটের ন্যানো তো, তাই আদর করে ডাকি : অ্যান্টিগল্প। মেটাফিকশন। গিমিকাব্য। শব্দনিরীক্ষা।
  • গুগলক্ষী ল্যাপটপ্পা জোরেহেইয়ো
  • সনিভাইয়ো ফেইসবইক্কা সিনেমাম্মা গানগাইয়া মুম্বাইয়া জাদুঝাপ্পি শিরোপাপ্পি
  • ফাংকি ডিজুস ভাষা।
  • কয়েক জনম আগেই আমরা ব্যাকটি বর্গাচাষা।
  • শিরোনামহীন ল্যাজে পাড়া। বন্ধু নাই মুখোশ ছাড়া।
    আজ যে বন্ধু কাল সে মুখোশ। মুখোশ, সেও বন্ধুহীন।
এই যে মুখোশবান্ধব বাস্তবতা, অন্ধ হয়ে স্ব-অর্থ মোহে ছোটা, এর সবকিছু কি স্ব-ইচ্ছায় না? দর্শনের গোল!

তাই ওয়াইন বোতলে ভরে মিনারেল খাই। ওয়াইন, পেলে খাই। ম্যারাডোনা খাই। মেসি কাকা ওয়াকা-ওয়াকা ইউটিউব ফেসবুক বেয়ে যা যা আসে, তার সবই খাই। অন্যকেও খাওয়াই।

পর্নভরা পেনড্রাইভ। শেয়ারমাজারে শিন্নি। ফোনসঙ্গমে গর্ভবান।
জলন্ত জলবায়ু। জুম্মাবার হাতমারা। অপেক্ষারত গডো।
অ্যাকুস্টিক হৃদয়। বৈতালিক আসর। তাত্ত্বিক কুমির।
আততায়ী তেলাপোকা। চলন্ত সিলিংপাখাগামী।
লালসবুজ অন্তর্বাস। অ্যাজাক্স জাতীয়তাবাদ।
বাঙালপনায় বলক। দেশপ্রেম ২.০ বেটা।
যন্ত্রবাহিত যৌনরোগ। রাতভর দিনযাপন।
বগল-ভরা আঁধার। বৈদ্যুতিন অবতার।
নিউ মিডিয়া = গুগল = ব্যক্তিগত ঈশ্বর।

সমীকরণ-শব্দসঙ্গমের ঘোর কাটলে ঢপ  লাগে।
নিয়ম করে ভুলে যাই। নতুন দৃশ্যকল্পে মাতি।
টুইটারে খই ফোটাই।

অসংলগ্নতায় মগ্ন। বক্তব্যহীন জীবন। আসলে ফাঁদ।

৪.
মোট কথা, মনের মোষ তাড়িয়ে যতটুকু এপলিটিকাল হওয়া যায়, যাবতীয় অ্যাক্টিভিজম থেকে যত দ্রুত বিচ্ছিন্ন হওয়া যায়। বাকি থাকলো, নিজের মতো করে কিছু ওপেনসোর্স রবীন্দ্রসংগীত লিখে ফেলা। তবে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে লেখার আগে ক্রসচেক করে নিন।

যেমন, এক ঝরোঝরোমুখরবাদলদিনে রবিঠাকুরকে এসএমএস করি। মামা, আপনি ফেসবুক নিয়ে গান লিখেছেন কোনো? রিপ্লাই পাই: বেতাসির, খাড়া, ছায়ানটে তোর এন্ট্রি নট।

কত আশা রে, এ আষাঢ়ে।
বিপুল তরঙ্গরে
ওরে ওরে।
_________________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা কলকাতা মুম্বাই
খসড়া ৫.০ / ১ জানুয়ারি - ৩ জুলাই ২০১০

Wednesday, June 10, 2009

শোকলিপি : টুশকির জন্য ভালোবাসা

নিতান্ত তুচ্ছ আর ব্যক্তিগত খবর। টুশকি গতকাল নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে চিরমুক্তি পেয়েছে। আমার সবচেয়ে আদরের সঙ্গী।

ছাদে টয়লেট সেরে প্রতি ভোরে সে ঘরে ফেরে। গতকাল ফেরেনি। কেউ নির্মমভাবে পিটিয়ে ফেলে রেখে গেছে তার নিষ্প্রাণ দেহ। বাসার সামনে।

খবরটা প্রথম দেয় উপরতলার ছোট্ট বন্ধু অরুণ।

টুশকি, আমার কাছে, আর দশটা বিড়াল নয়। আমাদের এ অনন্য সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ে বোনা; অনেক গভীরে। প্রিয় মানুষকেও যা বলতে পারিনি, টুশকিকে তা বলেছি। মানুষের সাথে সম্পর্কের নানা পরতে আমার ব্যর্থতাবোধ আর গোপন অপরাধবোধের কথা -- সব সে মন দিয়ে শুনত। অব্যক্ত যোগাযোগে কত ভাববিনিময় হতো আমাদের। এভাবে অজান্তে সে আমাকে পোষ মানিয়ে নিয়েছে।

টুশকির নিথর দেহটা মনে করলেই থেকে থেকে কান্না আসছে। আর দুই মাস পর তার পাঁচ বছর হতো। মানুষের ক্যালেন্ডারে হিসেব করলে, ৩৬ বছর।

শোক কাটাতে সাময়িক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা বেছে নিয়েছি।

প্রিয়জনের স্মৃতি নাকি ভোলা যায় না। কিন্তু আমি ভোগী মানুষ; ব্যস্ততায় মোহে ঠিক ভুলে যাবো প্রিয় টুশকিকে। শুধু একবার ডুব দিতে চাই গ্রিক পুরাণের সেই বিস্মরণের নদীতে। একবার।

টুশকি, মানুষকে তুমি ক্ষমা কোরো।

- ইশতিয়াক জিকো / ১০ জুন ২০০৯, ঢাকা
_______________________________
প্রাসঙ্গিক ফুটনোট

Friday, September 26, 2008

নেট ভ্রমণ : গুগল, ফেসবুক, আমাদের প্রাইভেসি

এক.
গুগল, আগামী দিনের জ্যোতিষী?
আপনি যা খুঁজছেন, গুগল কি তার উত্তর দিতে পারছে? ধরা যাক, শতাব্দীর সেরা সিনেমা কোনটি তার চেয়ে বরং জানতে চাইছেন : কোন সিনেমাটি আপনার কাছে সেরা হবে। কী সেই সিনেমাটির নাম, গুগল কি বলতে পারবে? তা'লে কিসের ঘোড়ার ডিমের সার্চ ইঞ্জিন।

সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়েরটি লেখা থেকে জানতে পারলাম, গুগল নাকি এবার মানুষের যাবতীয় প্রবণতাকে রেকর্ড করে ফেলবে। আপনি-আমি কোন কোন শব্দ দিয়ে খুঁজছি, গুগল তা নজরদারি করছে। জমা রাখছে বেনামে। এসব বিপুল পরিমাণ বেনামী তথ্য বিশ্লেষণ করে মানুষের চাহিদার প্যাটার্ন বের করা হবে, হচ্ছে। আর সে প্যাটার্ন বুঝে বাজারে আনা হচ্ছে নিত্য নতুন পণ্য, বিনিয়োগের নতুন নতুন প্যাকেজ। জাইটগাইস্ট ২০০৭ নমুনা দেখা যেতে পারে।

এবার ভয়ঙ্কর দিকটা অনুমান করি। ভোগ-সংস্কৃতির খপ্পরে ভবিষ্যতের কোনো চেহারা ভেসে ওঠে মনে।

গুগল তাদের গবেষণালব্ধ মডেল/প‌্যাটার্ন বিক্রি করবে (নাকি করছে?) মার্কেট রিসার্চ প্রতিষ্ঠানের কাছে। সেখান থেকে যাবে বহুজাতিক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের আরএনডি কাছে। তারা এমন সব পণ্য আমার কাছে আনবে, যা মনে হবে শুধু আমার জন্যই।

পকেট ফাঁকা থাকলেও সমস্যা নেই। আমি ব্যাংক ঋণ নিয়ে সে পণ্য কিনতে ছুটবো। অসংখ্য আমি প্রতিযোগিতা দিয়ে ছুটবে আমার সাথে কেনার জন্য। সব পরিচয় ভুলে আমরা সবাই ভোক্তা হবো। একমাত্র গুগলই যে আমাদের চাহিদা বোঝে, আমাদের মন বোঝে!

গুগল প্রত্যেকের ব্যক্তিগত ঈশ্বর হবেন।

দুই.
ফেসবুকেই জমে থাকে তারা
ফেসবুকে কত কী জমা করছেন। ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত তথ্য, মন্তব্য। কিছুদিন পর চাইলেন, একটু ব্যাকআপ রাখা যাক তথ্যগুলোর। বন্ধুদের কনটাক্ট অ্যাড্রেস কিংবা ইনবক্সের মেসেজগুলো। কিন্তু না, খেয়াল করে দেখুন, অটোমেটিক এক্সপোর্ট বা ডাউনলোড করার কোনো অপশন রাখেনি ফেসবুক।

কিছু থার্ড পার্টি অ্যাপ্লিকেশন পেলাম যেগুলো দাবি করছে, ফেসবুকে আমার বন্ধুদের প্রোফাইল থেকে তথ্য জড়ো করে আমাকে ইমেইলে পাঠিয়ে দিবে। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই তারা পাঠায় না, পাঠানোর ভান করে; শেষে ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ছাপিয়ে দেয় অন্য কোথাও

আর এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করলে ফেসবুক ব্যবহারবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আপনার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যেমনটি হয়েছিল রবার্ট স্কোবলের

সেখান থেকে জানতে পারি, ডেটাপোর্টেবিলিটি প্রকল্প নিয়ে। ইন্টারনেটে সাইটগুলোয় আপনি যেসব তথ্য জমা রাখছেন, তার নিয়ন্ত্রণ যেন আপনার হাতেই থাকে, সেটি প্রতিষ্ঠা করতেই এর শুরু। বিস্তারিত

সম্প্রতি গুগল, ফেসবুকও যোগ দিয়েছে এ গ্রুপে। দেখা যাক।
_________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৬ আগস্ট ২০০৮ / ঢাকা

Friday, August 1, 2008

গল্প : ফোনসঙ্গমের সম্ভাব্য জটিলতা

শাওন মাসের তেরো তারিখ রাত দেড়টায় ফোনসঙ্গম শেষে মুনতাহা মুরশেদের নকিয়া এন৯৫ মোবাইল থেকে একটি ফুটফুটে বাচ্চা বের হয়। প্রযুক্তির এই উদ্ভট রসিকতায় বা উৎকর্ষতায় মুগ্ধ না হয়ে মুনতাহা মুরশেদ উল্টো ভয় পায় যেহেতু তার পিরিয়ড চলছিল। মুনতাহার ভয় পাওয়ার আরও কারণ থাকতে পারে যা তার ঘুমন্ত স্বামীর জানার কথা নয়। অফিসফেরত ক্লান্ত স্বামী সুলতান মুরশেদ ঘুমিয়ে গেলেই মুনতাহা এমন সম্পর্কের ডানা মেলে নকিয়া এন৯৫ ফোনে। এবং দিনতারিখ ভুল না করলে মুনতাহার মনে পড়ে ঠিক এক বছর আগের কথা যেদিন স্টার প্লাসে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এই ফোনের বিজ্ঞাপনটি প্রথম দেখানো হয়। বিজ্ঞাপনটি দেখার পর মুনতাহার স্বামী নিজ উদ্যোগেই মালয়শিয়া থেকে এই ফোন তার জন্য কিনে আনে। কিনে আনার কারণ না জানলেও ক্ষতি নেই যেহেতু নির্বীর্য স্বামীদের চাপা কষ্ট অথবা তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ এ গল্পের আধেয় নয়। বরং এটা জানা গুরুত্বপূর্ণ যে শাওন মাসের তেরো তারিখ রাত দেড়টায় মুনতাহার কল লিস্টের শেষ নামটি আমার হবার পরও ফুটফুটে বাচ্চাটির ভার্চুয়াল বাবা হতে আমি অস্বীকার জানাই। এর কারণ হয়তো পুরান ঢাকার নিম্ন আদালতের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ যেখানে দিনের পর দিন হাজিরা দিয়ে আমি ক্লান্তি বোধ করি এবং এই বোধ আমাকে আরও অনেক কিছু অস্বীকার করাতে বাধ্য করে। আদালতে দাঁড়িয়ে আমি শুধু তাকিয়ে থাকি সামনে বসা ছেলেটির দিকে যে শাওন মাসের তেরো তারিখ কোনো এক নকিয়া এন৯৫ থেকে বেরিয়ে এসে ভিন্ন বাস্তবতার মুখোমুখি করেছে আমাকে।

পুনশ্চ: নকিয়া কথা দিয়েছে, ছেলেটির লেখাপড়া এবং আমার চলমান মামলার যাবতীয় খরচ চালিয়ে যাবে আজীবন।

____________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১ আগস্ট ২০০৮ / ঢাকা

Monday, June 16, 2008

দিনলিপি : বক্তব্যহীন জীবন

'ঈশ্বরে বিশ্বাস না করো, অন্তত কিছু কুসংস্কারে বিশ্বাস করো'
- গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

শাহবাগ থেকে মাইলাইন বাসে উঠে উপলব্ধি করলাম, আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। চারপাশের সব দেখে যাচ্ছি শুনে যাচ্ছি লিখে যাচ্ছি বকে যাচ্ছি। কিন্তু আমার নিজের বলার কিছু নেই। জীবন নিয়ে গভীর কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই। স্পষ্ট উচ্চারণ নেই। উপার্জনের আশায় অর্থের বিনিময়ে অনর্থ উৎপাদন করে যাচ্ছি। নির্মাণ করতে গিয়ে আপোষ করে যাচ্ছি দর্শকের তুষ্টির সাথে, প্রযোজকের অর্থের সাথে, সহকর্মীদের ভাবনার সাথে। এই আপোষের ক্ষেত্র আর মাত্রা বাড়ছে। হয়তো আরও বাড়বে। কারণ আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করছি, আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। আমার খারাপ লাগছে।
__________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৬ জুন ২০০৮ / ঢাকা

Saturday, April 19, 2008

গল্প: কজমো লাউনজে ফুয়াদের গলা কাটা

ঘড়িতে রাত পোনে বারো। প্রায় বিশ মিনিট হলো ফুয়াদের গলা কাটছি। ফুয়াদ আমার বন্ধু। কিংবা ডেইলি স্টারের হবু সাংবাদিক। অথবা দুটোই।

গলা কাটায় আমার অভিজ্ঞতা নেই। দ্রুত কাটতে গিয়ে দৃষ্টিনন্দনও হচ্ছে না। শিল্পসম্মতভাবে গলা কাটার কোনো ট্রেনিং নিলে ভালো হতো। হা হা হা।

আমি ঘামছি। গরমে। ফুয়াদ ঘামছে না। চোখ খোলা তার। নিষ্পলক চেয়ে আছে। কেমন ইনোসেন্ট মুখ।

একটু রেডিও শুনতে ইচ্ছে হলো। এমনই হয় আমার। গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে গিয়ে অনর্থক ইচ্ছেগুলো ভীড় করে। কী বার আজকে? লাভ গুরু? সানডে নাইট? রাতভর গান?

এবং তখন লোডশেডিং। গলা কাটা বন্ধ করতে হবে এখন। মেজাজটাই গেল খারাপ হয়ে। রাত বারোটায় কারেন্ট যাওয়ার কী মানে?

ফটোশপে ফুয়াদের ছবিটা দ্রুত সেভ করছি। পিসি এখনই অফ হয়ে যাবে। ইউপিএস-এর ব্যাকআপ বেশিক্ষণ থাকে না।

ফুয়াদকে ফোন করে বলতে হবে, ছবিটা কাল সকালে ইমেইল করে পাঠালে চলবে কিনা। তুই শালা সিভি জমা দিবি, সময় নিয়ে স্টুডিওতে নতুন করে ছবি তোল। ফ্যামিলি ফটো থেকে মুখ আলাদা করে পাসপোর্ট সাইজ বানানোর কী দরকার?

এতোটুকু বলার পরই স্টেজের সামনে সবাই তালি দিয়ে উঠলো। ফুয়াদও। ডেইলি স্টারে কাজ করে এখন সে।

এরপর কোন গল্পটা বলবো, ভাবছি। আরিফ ভাই চিরকুট দিয়েছেন, আরো এক ঘণ্টা কনটিনিউ করতে।

আমার তাৎক্ষণিক গল্প বলার অনুষ্ঠান চলছে কজমো লাউনজে।
___________________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৯ এপ্রিল ২০০৮, ঢাকা

Saturday, October 27, 2007

কিবোর্ডের পুরোনো গল্প কিম্বা পুরোনো কিবোর্ডের গল্প

আপনাকে গল্পটা বলা দরকার। কিবোর্ডের গল্প।

এটা ঠিক গল্প না, কিছু উচ্ছিষ্ট দৃশ্যপরম্পরা, মাথার ভেতর। প্রথম দৃশ্য সাজাতে আমাদের লাগবে একজন চরিত্র, নাম দিলাম তার আজাদ। আর লাগবে একটা পুরোনো কম্পিউটার কিবোর্ড।

ধরা যাক, আজাদের কম্পিউটার কিবোর্ডটা পুরোনো, ময়লা হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি যন্ত্রটার। চালু কিবোর্ড। দোষ একটাই, পুরোনো, ময়লা এবং ফাংশন কম।

সুতরাং একদিন আসে ঝা-চকচকে মাল্টিমিডিয়া কিবোর্ড। পুরোনো কিবোর্ডের জায়গা হয় স্টোর রুমে। দিন যায়, নতুন কিবোর্ডে মজে যায় আজাদ।

মাসখানেক পর, এক রাতে, হঠাৎ বিগড়ে যায় নতুন কিবোর্ড। এত তাড়াতাড়ি নষ্ট হলো! ধ্যাত! পুরোনোটাই তো ভালো ছিল। স্টোর রুমে পুরোনো কিবোর্ডটা আনতে যায় সে।

আজাদ কিন্তু খুঁজে পায় না কিবোর্ডটা। কাউকে না বলে কখন কোথায় যে দূরে চলে গেছে কিবোর্ডটা, আমরা তা জানি না, জানার দরকার নেই। জানতে চাইলে, গল্পটা যৌক্তিকভাবে শেষ করার জন্য, আপনারা কেউ নিয়ে যেতে পারেন পুরোনো কিবোর্ডটা। পরে সময়মতো জানিয়ে দেবেন পাঠকদের।

যেকোনো সম্পর্কের বেলায় এটা সত্যি। সম্পর্কের আপাত প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আমরা কেউ আজাদ হয়ে যাই। আর কাউকে কাউকে পুরোনো কিবোর্ডের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়।

দুঃখিত পাঠিকা, আপনি গল্পটা পড়ে বিষণ্ণ হবেন না। কোনো রূপক হিসেবেও নেবেন না। এটা কিবোর্ড, নিতান্তই কিবোর্ডের গল্প।

আসলে গত দু দিন ধরে আমার নতুন কিবোর্ডের কিছু বোতাম কাজ করছে না, আবার ইদানীং খামাজ গানটা শুনছি, আর তার ভিডিও দেখছি, আর এইসব ভাবছি, আবোলতাবোল। মানুষ আর জড়তেও তো সম্পর্ক হয়। হয় না?

বস্তুত আমার টেবিলে আজ বিনয় মজুমদার, অদূরে ঋত্বিক ঘটকের অযান্ত্রিক ডিভিডি, হেডফোনে খামাজ এবং মনিটর জুড়ে ফেসবুকের কোনো প্রোফাইল।

___________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৭ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Friday, October 26, 2007

যে কারণে তোমাকে আর চিঠি লিখি না

১.
তোমাকে একটা চিঠি লিখবো আজ।

কিন্তু কী লিখবো? খসড়া করা যাক।

প্রথমত, লিখতে পারি, আমাদের দুজনের মিল। সঠিক করে বললে, 'ঋণাত্মক অমিল'। গাণিতিকভাবে সিদ্ধ হলো কথাটা। হলো তো?

দ্বিতীয়ত লিখবো, তাৎক্ষণিক ভাবনা কোনো। ঠিক এই মুহূর্তের ভাবনা, যা আসে মাথায়, খপ করে ধরবো, আর লিখে ফেলবো। বেশি ভাবলেই যুক্তির ছুরির তলে চলে যাবে ভাবনা। কে-কী-কেন-কখন-কোথায়-কিভাবে প্রশ্নগুলো ধর্ষণ করবে সদ্যজাত ভাবনাকে, মাথার ভেতর। আমি, নৈতিকভাবে, তার বিপক্ষে।

তৃতীয়ত, বলে নিই, এইসব প্রথমত-দ্বিতীয়ত ক্রম মেনে চিঠি লিখা যায় না।

চতুর্থত বলে কিছু নেই। আপাতত।

২.
কিন্তু কেন লিখবো তোমাকে?
আবার পড়ো উপরের প্রশ্নটা।

এবার তুমি যদি জোর দাও কেন শব্দে, তার মানে প্রশ্নে আমি জানতে চাইছি তোমাকে লেখার কারণটা।

যদি জোর দাও লিখবো শব্দে, বাক্যের মানে কিন্তু পাল্টে যায়। মানে হলো এখন, তোমাকে ফোনে-ফেসবুকে-ম্যাসেঞ্জারে না বলে কেন লিখবো?

আর যদি জোর দাও তোমাকে শব্দে, তখন অনেক বিকল্প 'তুমি' ঘিরে ধরবে তোমাকে। কেন এ সময়টুক, চিঠিখানি অন্য কোনো 'তোমাকে' নয়? ইত্যাদি।

এভাবে আমার প্রতিটি বাক্যপাঠে তুমি ভুল বুঝতে পারো আমাকে। তবু লিখবো আমি।

কী? জ্ঞান দিচ্ছি বলে রেগে যাচ্ছো?
রেগে গেলে তো হবে না।
যাও, রেগে যাও।

লিখলাম না আর চিঠি।
_______________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৬ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Thursday, October 25, 2007

কবিতা : গভীর রাতে বেণীমাধব

তুমি এখন অনেক বড়
নতুন কিবোর্ড কম্পুছানা,
নেটের ভেতর ই-বুক হাজার
দিদিমণি দেয় না হানা।

সেলাই দিদিমণির খবর
জয় গোস্বামীর বইয়ের ফাঁকে,
বেণীমাধব নবম শ্রেণী
গভীর রাতে তোমায় ডাকে।

______________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৫ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Tuesday, July 24, 2007

বাংলা প্যানগ্রাম : এক বাক্যে সব হরফ

বর্ষামুখর দিন শেষে, ঊর্দ্ধপানে চেয়ে যখন আষাঢ়ে গল্প শোনাতে বসে ওসমান ভুঁইঞা, ঈষান কোণে তখন অন্ধকার মেঘের আড়ম্বর, সবুজে ঋদ্ধ বনভূমির নির্জনতা চিরে থেকে থেকে ঐরাবতের ডাক, মাটির উপর শুকনো পাতা ঝরে পড়ে ঔদাসীন্যে, এবং তারই ফাঁকে জমে থাকা ঢের পুরোনো গভীর দুঃখ হঠাৎ যেন বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে ধূসর জীবনে রঙধনু এনে দেয়।
বাংলা প্যানগ্রাম বানানোর চেষ্টা করছি। বাংলা বর্ণমালার সব হরফ অন্তত একবার থাকে, এমন বাক্য। ফন্ট বা কিবোর্ড ঠিক আছে কিনা, তা পরখ করতে কাজে লাগে প্যানগ্রাম। কিবোর্ডে টাইপ করে দেখুন দীর্ঘ বাক্যটি, আঙুলের সাথে মোলাকাত হয়ে যাবে সব বাংলা বর্ণের।

প্যানগ্রাম-এর বাংলা পরিশব্দ কী? জানি না, আপাতত নাম দেয়া যাক, সব বর্ণঅলা বাক্য। বাংলায় এমন বাক্য বা অনুচ্ছেদ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। ইংরেজিতে আছে অনেক। বেশ প্রচলিত একটা :

৩৫টি হরফ লাগলো বাক্যটিতে। ২৭ হরফঅলা ইংরেজি প্যানগ্রাম : DJs flock by when MTV ax quiz prog.

প্যানগ্রাম যত ছোট হয়, তত সুবিধা। মানুষের ডাকনাম, শব্দসংক্ষেপ, এক বর্ণ একাধিকবার না ব্যবহার করে প্যানগ্রাম বানানো আরও চ্যালেঞ্জের কাজ। বাংলায় এমন প্রচেষ্টা দেখা যায় মনোজকুমার মিত্রের লেখায়, খটমটে যদিও :
বিষণ্ণ ঔদাসীন্যে ঊষাবৌদি বাংলাভাষায় প্রচলিত নিখুঁত গল্পটি অর্ধেক বলতেই ঋতু ভুঁইঞা আর ঐন্দ্রিলা হৈহৈ করে উঠল-- ওঃ, থামো বুঝেছি বড্‌ডো পুরাণো ঢঙের গল্প-- মূঢ় আড়ম্বর ও আত্মশ্লাঘার ফল জীবনে বিঘ্ন ও বৃহৎ ক্ষতি-- এ নীতি যার না?
এ প্যানগ্রাম পাওয়া গেছে 'প্রসঙ্গ বাংলাভাষা' বইয়ে, 'বাংলা ইঞ্জিনিয়ারিং বর্ণমালা' প্রবন্ধে। বইটি ছাপা হয় ১৯৯৩ সালে, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা থেকে (সূত্র)। অবশ্য মনোজকুমারও তিনটি নাম ব্যবহার করেছেন : ঊষা, ঋতু ভুঁইঞা এবং ঐন্দ্রিলা।

সাধু রীতিতে লেখা প্যানগ্রাম পেয়েছি :
আকবর ঊষাকালে বৃহৎ‍ ঐরাবতে দিল্লীর অর্ধেক প্রদক্ষিণ করতঃ হঠাৎ‍ স্বগোতক্তি করিলেন, এই ঢোল‌ পাখোয়াজ সঙ্গীত আর সৌরভমন্দ্রিত আড়ম্বরপূর্ণ রঙিন জীবনের ছত্রতলে যে বিষণ্ণ দারিদ্র তাহা কি মোগল সাম্রাজ্যের ঈষৎ‍ ঔদাসীন্য, প্রচলিত বৈদেশিক নীতি নাকি বারোভুঁইঞার সহিত পুরানো এবং আত্মঘাতী যুদ্ধের ফসল?
ঢ়,ড,ঝ ইত্যাদি বর্ণ অনুপস্থিত বাক্যে; লিপোগ্রাম হয়ে গেছে। লিপোগ্রাম হলো প্যানগ্রামের উল্টো, ইচ্ছে করে কোনো বর্ণ বাদ দেয়া হয় বাক্যে বা অনুচ্ছেদে। যেমন, নিচের অনুচ্ছেদে ইংরেজি e বর্ণটি গায়েব :
This is an unusual paragraph. I'm curious how quickly you can find out what is so unusual about it. It looks so plain you would think nothing was wrong with it! In fact, nothing is wrong with it! It is unusual though. Study it, and think about it, but you still may not find anything odd. But if you work at it a bit, you might find out! Try to do so without any coaching!(সূত্র)
প্রাসঙ্গিক নিবন্ধ
# Pangram - ইংরেজি উইকিপিডিয়া ভুক্তি
# ইংরেজি প্যানগ্রামের তালিকা
# সব হরফের বাক্য - আবু জার মোঃ আককাসের ব্লগ থেকে

Monday, April 9, 2007

কবিতা : আমি, তুমি, আঁধার, ব্রিজের ওপর

ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছি ঠায়
বৃষ্টি ঝরছে ঝুমঝুম নির্জন
ভাবছি তুমি এসেই পড়বে 'ক্ষণ
আসবে কখন তোমার প্রতীক্ষায়

তুমি কি আমায় নিয়ে যাবে বহুদূর
দূরের সে পথ চলে গেছে নদীমাঝে
নেবে কি আমায় একটু আপন করে
ব্রিজের ওপর একাকী অন্ধকার

তুমি বা তোমরা কে দেবে আমায় ঠাঁই
খুঁজে খুঁজে ফিরি পরিচিত কোনো মুখ
সময়ের স্রোতে অনুভূতি গেছে ভেসে
ঝাপসা চোখেতে বৃষ্টি আঁধার কালো

আমি তো জানি না তুমি ও তোমার নাম
তবুও তোমার সাথেই থাকবো আমি
নিয়ে যাও তুমি একটু কোথাও দূরে
গভীর এ রাত জীবনের মানে খোঁজে

চারপাশ কেন দ্বিধা-সংকোচে ভরা
এলোমেলো সব একাকীত্বের ভয়
তুমি মিশে যাও তুমি ও তোমার ভীড়ে
হয়তো আমিই তোমাদের কেউ নই

- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা/ 9 এপ্রিল 2007
________________________________
নোট # 4 : আরেকটু হলেই হয়ে যেত I'm with you গানের অনুবাদ। হয়নি। অথবা পারিনি। গানের কথা ভেঙেচুরে ষণমাত্রিক ছন্দে ঝুলছে এ কবিতা।

নোট # 2 : সংযুক্ত ছবিটা ফটোশপের ক্যানভাসে ব্রাশ দিয়ে ধর্ষণ করার ফসল। আজকের ঘটনা ।

নোট # 1 : আমি-তুমিওলা কবিতা পাঠে মজা নেই। এক রকম ক্লান্তিবোধ আসে। আমিতুমি ছাপিয়ে উঠে আসুক ব্রিজ, নিঃসঙ্গতা, গভীর রাত, জীবনের মানে।

নোট # 3 : কবিতাটা প্রথম লিখেছি 7 এপ্রিল। শব্দ-বাক্য পালটে নগর-সংস্করণ বের করলাম। 9 এপ্রিল।

Thursday, April 5, 2007

হ্যালোজেন বিলাস কিম্বা বৃষ্টিবন্দনা

বিল ডগলাসের সুইট রেইন কম্পোজিশন শুনছি। তারায় সুর, একটানা বেজে চলেছে, ধীর লয়ে। নস্টালজিয়া ভর করছে। করুক। গতকাল নাকি টানা দেড় ঘণ্টা বৃষ্টি হয়েছে ময়মনসিংহে। এদিকে ঢাকা বৃষ্টিশূন্য। শুকনো বাতাস বইছে এক আধটু। নিতান্তই লোকদেখানো।

সারা বছর শহরের প্রধান সড়কে নৌকা চললে বেশ হতো! ছাতা মাথায় মাঝিরা বৃষ্টিবন্দনা করতো দিনভর, খাঁ খাঁ রোদে। নাকি এটা সাময়িক শহুরে ফ্যান্টাসি? বিল ডগলাস কানে গুঁজেছি বলে?

রাত পোনে দুই। চুপ করে ছাদে চলে যেতে ইচ্ছে করছে। হয়তো রাস্তাজুড়ে সারি সারি আলো, স্ট্রিট লাইটের। এসব হ্যালোজেন বৃষ্টিতে কবে ধুয়ে গেছে আমাদের স্বপ্ন বিলাসিতা। গতকাল শুধু ফিরে আসে রাত গভীর হলে।

আজকাল বাড়ির ছাদে অ্যান্টেনা চোখে পড়ে না।
ডিশযুগে নাগরিক পাখিরা ভালো আছে তো?

_________________________
নোট : ছবিটা মার্চের কোনো একদিন এঁকেছি। তারিখ মনে নেই।

Monday, February 19, 2007

ছবি : আমার জানলা দিয়ে আমার পৃথিবী

আমার জানলা দিয়ে যায় না দেখা ইসলামাবাদ
শুধু দেখি আমি রোজ আমার পাশের বাড়ির ছাদ
- অঞ্জন দত্তের গান থেকে

ছবিটা তুলেছি 2004 সালে। সেপ্টেম্বরের 27 তারিখ।
সিডিতে রাখা পুরোনো ছবি ঘাঁটতে গিয়ে পেয়ে গেলাম।
অনেকক্ষণ ধরে তাকিয়ে আছি।
ছাদ ফুঁড়ে কলামের রডগুলো যেন মেঘ ছুঁতে চায়।
একদম মানুষের মতো।
এসব ভেবে ভালো লাগছে ছবিটা এখন।
ইংরেজিতে এ ছবির নাম রেখেছি desire।

Sunday, October 22, 2006

চিরকুট কাব্য

1
বৃষ্টি এখন শহর জুড়ে
মনের বাইরে, চোখের কোণে
রাগ করেছ? খুব কেঁদেছ?
প্রিয় প্রিয় বন্ধু আমার?
কিন্ত যখন ধরতে যাবে
অমনি আমি দৌড়ে পালাই
ভা লো বা সা র সু তো র টা নে

1.5

নেট চলে যায় চেপে রাখি দাঁত
তুমি গেছো চলে থেকে যায় রাত
বাড়াই দু হাত অন্ধকারে
আজ আর নয় কথা হবে কাল
ঝুমুর কিংবা দাদরা ত্রিতাল

2
তিনশো বারো শহীদ হল
মুরগি খেলে ফুটবল
চোখ গড়িয়ে পড়ছে জল
চিঠি লিখে আমায় বল
পোস্টমাস্টার মন উতল
নদীর ঢেউ ছলাৎ ছল
ছ লা ৎ ছ ল ছ লা ৎ ছ ল

3
কোরিনথিয়ান ডিসঅর্ডার!
মেঘ কিনবো এক ফালি
ডাঁটভাঙা ছাতার নিচে
খাওয়াবো খাবো
চু মু!

4
পুরোনো, বেশ পুরোনো একটা
স্বপ্নকে কাঁঠাল পাতা খাইয়ে বাচিয়ে রাখি,
কাঠাল গাছের সংকট দেশজুড়ে। মূল্যবোধেরও।
বণিক সমিতির সমঝোতা সংলাপে তাই
নির্ধারিত হয় গোলাপ ফুলের মূল্য, বাজারমূল্য।

5
তোমার স্বাধীনতা
আছে ব্যস্ততা
আর করপোরেটের
কালো ধোঁয়া
চলে এসি হাওয়া
সাথে অজুহাত
তুমি বাইবাই
অ্যান্ড
টে ক কে য়া র!
________________________
নোট : মোবাইল ফোন থেকে পাঠানো চিরকুট, থেকে যায় কিছু, সেগুলো থেকে এগুলোর জন্ম।

Thursday, September 14, 2006

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক, বোমা ফুটবেই

৯ সেপ্টেম্বর ২০০৬
গিমিপাদ্য : লেবাননে বৈঠক শেষে চলে যাই মেক্সিকো। ব্যাটা ফিলিপ কালদেরন লাফাচ্ছে ইদানীং। এদিকে, কয়লাখনির লাশ উদ্ধার শেষ না হতেই মহারাষ্ট্রে বোমা ফোটে, গত মাসে বাগদাদে মারা গেছে ১৫৩৬ জন মানুষ, মানুষ শব্দটায় এসে টেপের ফিতা আটকে যায়, আমি সেসব না দেখার ভান করে মালেগাঁও যাই, ১২৫ জন সারিবদ্ধ হাসপাতালে, খাতায় সই মেরে কফি আনানের মতো হাত নাড়ি, সময় নেই সময় নেই, ভিয়েনায় সন্ধায় মিটিং, ইউরেনিয়াম ডুগডুগি বাজানো বন্ধ করতে ইরানকে নতুন টোপ দিতে হবে, চালু মাল আহমাদিনেজাদ শালা, সোজা আঙুলে লাভ নেই লাভ নেই, ব্লেয়ারাঙ্কেলকে চুপিচুপি দেখাই লেবার পার্টির মূলনীতি। মুখ ফসকে, গলা ছেড়ে বলা যাক এবারঃ হে বিশ্বনেতারূপী অবতারবৃন্দ, কিছু একটা ত্যাগ করুন, পদত্যাগ বা মলমূত্রত্যাগ, কারণ আপনাদের ত্যাগেই মানু মানু মানুষের মুক্তি, জেনারেল পারভেজ আফগানে বাঁশি বাজানোয় মগ্ন ছিল, বেচারা শোনেনি আমার কথা; ক্লান্ত আমি, বৈশ্বিক আমি, বিছানায় শুয়ে পরের দিনের শিডিউল বুনি, বুনতে থাকি, ঠিক আপনার মতো। দেয়ারফোর, আইলাভিউ। (প্রমাণিত)
______________________
১০ সেপ্টেম্বর ২০০৬
নোট: সত্যি বলতে কি, পেশাগত কোনো গোপন মহৎ উদ্দেশ্য ছাড়া, অর্থের কারণে, একটা টেলিভিশনের ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কে ইদানীং যাতায়াত আমার। কাজের খাতিরে তাই, অচেতন মন থেকেই যেন চাই, অনেক, অনেক মানুষ মারা যাক। নিউজ অ্যারিথমেটিকের সোজা ফর্মূলা, অনেকে মারা গেলে দর্শকপ্রিয় ব্রেকিং নিউজ, একটা এক্সক্লুসিভ প্যাকেজ আইটেম বানানো যাবে, সহকর্মীর পিঠ চাপড়ানো, সাথে নিউজ এডিটরের পাশবিক হাসির জগাখিচুরি কল্পনা। আমি তখন, কর্পোরেট উত্তেজনায়, নিউজ অ্যাজেন্সির চ্যানেল থেকে চোখ সরাই না। দুর্ঘটনার ওয়েবপেজে গিয়ে বারবার রিফ্রেস বাটন চাপি। মৃতের সংখ্যা, লাশের সংখ্যা কি বাড়লো? মানুষ-মানুষ খেলার স্কোরবোর্ড! মানুষ তখন, সত্যি বলছি, অফিস টাইমে, আমার কাছে, স্রেফ পরিসংখ্যান হয়ে যায়। বাসায় ফিরে বেহুঁশ আমি, অনুভূতিহীন মৃতপ্রায় আমি, কান্নাকাটি করি, হয়তো বা করি না, অথবা করার ভান করি, কুমির-মোরগের মতো।

এ গিমিপাদ্য আমার সেই মৃতপ্রায় আমি’র কাউন্টার চিৎকার। এভাবে মানুষ হবার ইচ্ছা জিইয়ে রাখি। হয়তো ভুল করে একদিন মানুষ হয়ে যাবো। সাধু পাঠক, সাবধান!
______________________
১৩ সেপ্টেম্বর ২০০৬
আপডেট: অবশেষে সিদ্ধান্ত নিলাম, কাজ করবো না সেখানে। হালকা লাগছে ভেবে। ঐক্যের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনি সরকার গঠন হোক। আপাতত আমাকে চোখ-কান পাততে হচ্ছে না হামাস নেতা-মাহমুদ আব্বাসের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে। দামেস্কে বোমা হামলার ইনভিশন লিখতে গিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে না মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি।

মিডিয়া থেকে প্রসব হতে থাকুক ব্রিটনি স্পিয়ার্সের দ্বিতীয় সন্তান, সাদ্দামের শুনানি, জাপানের গোয়েন্দা স্যাটেলাইট, উত্তর কোরিয়ার পিয়ংইয়ং পরমাণু বোমার পরিকল্পনা, চিলির বিক্ষোভসহ যাবতীয় মুনাফালভ্য দুর্ঘটনা, আর তার বিক্রয়যোগ্য উপস্থাপনা।

করলাম না আপোস কর্পোরেটের সাথে, হলাম না হয় একটু মহান, একটু মানুষ। এত ভয় দেখাচ্ছেন কেন মোড অব প্রোডাকশনের?
______________________
১৫ সেপ্টেম্বর ২০০৬
মন্তব্যকারীদের প্রতি :
সান্ত্বনা দেবেন না। প্রশংসা, নান্দীপাঠ চলুক অন্য কোথাও। টেলিভিশন, যদি থাকে, বন্ধ থাকুক। লোডশেডিংয়ের সময় ঘরে ঘরে জাতীয়তাবাদের মোমবাতি জ্বালান। এভাবে ধীরে ধীরে, নিজেকে বিক্রয়যোগ্য, বা বিশ্বাসযোগ্য করে তুলুন আপনার ভালোবাসার মানুষটির কাছে। ক্ষমা করুন।

- ইশতিয়াক জিকো, সেপ্টেম্বর, ঢাকা

Saturday, April 1, 2006

ভাবনার স্প্রে ০০১

১. এসব দেখি কানার হাট-বাজার...

এ লেখার আগের দুটো পোস্ট চিন্তা নিয়ে চিন্তা এবং কারণ আমরা মাদ্রাসায় পড়ি-এর মন্তব্যগুলো পড়লাম। একটা বিষয় অদ্ভুত! যারা পোস্টটিতে ভিন্নমত দিয়েছেন, তাদের সাথে আমার মত প্রায় মিলে যায়। আর লেখায় উৎসাহ দিয়ে সহমত পোষণ করেছেন যাঁরা, তাঁদের সাথে মতাদর্শের ভিন্নতা রয়ে যাচ্ছে।

এমনটা মনে হচ্ছে কেন? হতে পারে, বক্তব্য উপস্থাপনায় গলদ আছে। যে দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লেখাটি তুলে দিয়েছিলাম, আর লেখাটা যেভাবে নেয়া হয়েছে, দুটোয় মেলেনি। সান্ত্বনা দিলেন আপনি, লেখক-পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গির এ তফাৎটুকু থাকেই।

কিন্তু তাই বলে এত ভিন্নতা?

তাহলে এ কারণ অন্যভাবে বলা যায়, লেখাটি স্বচ্ছ করে লিখতে পারিনি। 'লিখতে পারিনি' কথাটায় বিনয়ের গন্ধ পেলেন। অভিযোগ করলেন, বিনয় হলো উন্নাসিকতা ঢাকার একটা কৌশল! বাক্যের পুনর্বিন্যাস করা হলো : 'স্বচ্ছ করে লিখিনি'। এবার আক্রমণ : 'আপনি আসলে স্বচ্ছ করে লিখতে পারেন না'।

'স্বচ্ছতা' শব্দের অর্থ নিয়েও ব্যক্তিবিশেষে 'অস্বচ্ছতা'।

এ রকম সমস্যা অনেকের বেলায় হয় নিশ্চয়ই। একই ভাষায় যোগাযোগ করি, তারপরও যোগাযোগটা হয় না 'ঠিকমতো'। এসব নিয়ে একটু ভাবনার স্প্রে ছিটাই। বিভ্রান্তির মশামাছিতেলাপোকারা বিরক্ত করছে বেশ...

একটা গিমিনাট্য দিয়ে শুরু করা যাক। খসড়া লিখেছি কেবল। শিরোনাম : 'এসো ট্যাগ লাগাই'। 'প্রাপ্তবয়স্কদের' জন্য রচিত এ গিমিনাট্য পড়ার আগে এর আগের দুটো পোস্ট (মন্তব্যসহ) পড়ে নিন।

<গিমিনাট্য শুরু>

- সিকোয়েন্স এক -
সামহোয়্যারইন রোড। সন্ধ্যাবেলা। রাস্তায় রিকশা, ট্যাক্সি, মোটর সাইকেল আসছে-যাচ্ছে। বাঁ পাশের ফুটপাতে সানগ্লাস চোখে কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে। হাতে একগাদা ট্যাগ (স্টিকার বা লেবেল)। বেশিরভাগ চোখ রিকশার ওপর। মাঝে মধ্যে রিকশা আটকাচ্ছেন। পছন্দ না হলে একপাশে নিয়ে যাচ্ছেন। ট্যাগ লাগিয়ে দিচ্ছেন।

ট্যাগ লাগানো এক ধরনের খেলা। পুরনো খেলা। আদর করে 'ট্যাগট্যাগ'-ও বলেন অনেকে। একেক ট্যাগে একেক বিশেষণ লেখা থাকে। দ্রুত লাগাতে হয় এসব ট্যাগ, অনেকে মিলে। দ্রুত খেলতে হয় বলে সমস্যাও হয়। তবে এ সমস্যা অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সুবিধা, খেলার জনক কথাটা প্রায়ই বলেন। রাস্তায় কেন এ খেলা? উত্তরে নূরানি হাসি। বলেন, মাঠের খেলা ক্রিকেট। রাস্তার খেলা ট্যাগট্যাগ।

আবার ফিরে যাই সে রাস্তায়, সন্ধ্যাবেলায়, ফুটপাতের ধারে, বাঁ পাশে। ট্যাগট্যাগ চলছে। কেউ ট্যাগ লাগাচ্ছেন রিকশার গায়ে। কেউ লাগাচ্ছেন রিকশাআরোহীর শরীরে, জামায়। রিকশাচালক কিছু বলতে চান। তিনিও 'ট্যাগ খান'।

দুয়েকজন খেলা সমন্বয় করতে এগিয়ে আসেন। এইখানে না, ওইখানে, ওইখানে ট্যাগ লাগাও। এভাবে লাগায় নাকি? কোন ইশকুল থেকে ট্রেনিং নেয়া তোমার? ওই, আঠা শেষ। দোকান থেকে আঠা নিয়ে আসো। কুইক।

শব্দমুখর খেলা। এক বাক্যের শব্দ আরেক বাক্যের ঘাড়ে ওঠে। কে কাকে নির্দেশনা দিচ্ছেন, কেউ তা দেখছেন না। খেলাটাই আসল। হি হি হি।

ট্যাগ ট্যাগা ট্যাগ ট্যাগ
ট্যাগা ট্যাগ ট্যাগা ট্যাগ
(আবহ সঙ্গীত হিসেবে এ নিরীহ মিউজিক বেছে নিলাম। আমরা একটু পর দুই নম্বর সিকোয়েন্সে যাবো। তখন সঙ্গীত আপনাআপনি মিলিয়ে যাবে।)

- সিকোয়েন্স দুই -
রাস্তার এপাশে, ওপাশে ছোটখাটো ভিড় জমে গেছে। ট্যাগট্যাগ খেলা দেখার লোক। কী-হয়-কী-হয় কৌতূহল। চাপা উত্তেজনা। নিজেদের মধ্যে ফিসফাস গল্প চলে। এ রাস্তায় নাকি এমন খেলা কারও চোখে পড়েনি।

আরেকজন 3 : সুন্দর খেলা, ভালোই তো লাগছে, মাইরি।
আরেকজন 14 : যাহ, বিদেশ ছিলেম যখন, এমন খেলা কত দেখে এলেম।
আরেকজন 15 : বিদেশ তো আমিও আছিলাম। যাই বলেন, খেলাটা এই রাস্তায় একটা নতুন মাত্রা আনতাছে। আই অ্যাম ফিলিং ইট।
আরেকজন 9: নষ্ট ল্যাম্প পোস্টটার উপরি হেবি রাগ হতিছে। বাতি ঠিক থাইকলে খেলাটা দেইখে বড় সুখ লাইগতো।
আরেকজন 2: বাঙঙঙ গালি! খাইবার দিলে সবটি বইবার চায়। ওমমিয়া, সাইড লন, খেলা দেখবার দ্যান।
আরেকজন 6 : ম্যালা খেলা দেখনু। বাহে, আইসো, মুড়ি খাই।

কেউ আবার উৎসাহ দিতে মাঝরাস্তায় চলে আসেন। দুয়েক বার শিস দিয়েই আবার ভোঁ দৌড় ওপাশে। উফ, ট্রাফিক পুলিশটা আচ্ছা ত্যাঁদোড়। খেলার গ-ও যদি বুঝতো!

খেলা চলছে। ভিড় বাড়ছে। জমে উঠছে। কে জিতবে কে হারবে, দূর থেকে বোঝা যায় না।

জটলা দেখে ট্রাফিক পুলিশ হঠাৎ সম্বিত ফিরে পান। দায়িত্ব, হ্যাঁ, অনেক দায়িত্ব তাঁর। আইন নিজের হাতে তুলে নেন। দেন বাঁশিতে একটা ফু। জোরে। ফুউউউউউ।

ব্যস। জটলা নিমেষে হাওয়া। কী তামশা! হি হি হি।

ইশ, খেলার শেষটা আর দেখা হলো না।
কী হলো? শেষ হলো তো?

- সিকোয়েন্স তিন -
নেপথ্য কণ্ঠ 1 : আজকের যে ঘটনা টাটকা, আগামীকাল তা মিথ (myth)। পরশুদিন মিম (meme)। খবরের কাগজওলারা জানেন সেটা। সেভাবেই 'খবর তৈরি' করেন তাঁরা। আজকে করছেন সচেতনভাবে। পরদিন করেন অবচেতনভাবে।

নেপথ্য কণ্ঠ 2: উমমম... 'যা কিছু ভালো, তার সাথেই' তো থাকবে কাগজওলারা, নাকি? একটু কুশলী তো তখন হতেই হয়। তিরিশটা ভালোর ফাঁকে আধটা 'নির্দোষ কালো' মিশালেই ভালোর 'মানহানি' হয়ে গেল? উমমম... তোমরা বাপু বড্ড সেকেলে। সত্যযুগে বসে নেটচর্চা-পরচর্চা করো। তোমাদের সাথে খেলায় পারি না গো।

সম্মিলিত নেপথ্য কণ্ঠ: পারি না গো। পারি না গো। হি হি হি।

নেপথ্য কণ্ঠ 1 : তাই প্রতিদিন খবরের কাগজ আসে দরজার তল দিয়ে। দরজার তল থেকে হাতে। হাত থেকে মগজে। মগজ থেকে মগজে। তারপর আবার কাগজে। খবর আর অ-খবর পরিবহন প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

সম্মিলিত নেপথ্য কণ্ঠ: গুরু, অনেক স্টান্টবাজি করলেন। কথা না বাড়িয়ে আজকের খবরটা শোনান। আপডেটেড থাকতে চাই আমরা। আপডেটেড।

আজকের খবর। গতকাল রাতে 'এনকাউন্টারে' এক রিকশাআরোহী ট্যাগিত। কর্তব্যরত কর্তৃপক্ষ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পুলিশসূত্রে জানা গেছে, ...

খবর পড়ে, মর্নিংওয়াক শেষে, অতিউৎসাহী জনাকয় প্রবীণ সে রাস্তা দেখতে যান। রাস্তায় কিছু ছেড়া ট্যাগ পড়ে আছে। সেগুলো কুড়িয়ে নেন একজন। পড়ে শোনান, জোরে জোরে। আমরা শুনতে পাই কথাগুলো :

আধা-হেগেলিয়-যুগে-প্রাপ্ত-রেফারেন্সওলা লাইনছাড়া বামকর্মী।
অসৎ-ভণ্ড-মার্ক্সীয়-কথাজীবীর ভাবশিষ্য।
বুদ্ধিবৃত্তিক-গণিকালয়ে গমনকারী।
ফমজারিয় বিভ্রান্তিতে পড়া কিছু আবর্জনার পাঠক।
ফমজারের ডট ডট ডট (বাকিটুকু পড়া যায় না, ছেড়া)।
ইসলাআআ সমাজতঅঅঅ চ্যাঅ্যাঅ্যা (লেখা বোঝা যায় না, অস্পষ্ট)।

তারা পার্কের ধারে বেঞ্চিগুলোয় বসেন। একটু জিরিয়ে নেয়া দরকার। সাথে আড্ডা চলে। থিয়েটার অব অ্যাবসার্ডের ক্যাসেট চালু হয়।

ভাবীকে সালাম দিবেন। অনেকদিন উনার হাতের রান্না খাওয়া হয় না। মেয়েটার ভালো প্রস্তাব এসেছে, ছেলে ফ্লোরিডায় থাকে, এমপির ভাতিজা। পল্টুটার বোধহয় মাথা গেছে। সারারাত কম্পুটারে কী সব টাইপ করে। নিজে নিজেই হাসে খালি। সকালে ওঠে দেরি করে। আপনার ভাবী কিছু বললেই রেগে যায়। বলে, ডিসটার্ব করো না। ব্লগ করি। অ্যাজাক্স প্রোগ্রামিং করি। এই সেই। আজকালকাল ছেলেমেয়েদের মুখের কথাই তো বুঝি না। আরে নাহ, এখনও তারিখ পাকা হয় নাই। ওহ্হো, তিন তারিখের ফ্লাইটে আসছে ছোট মেয়েটা, জামাইকে নিয়ে। তা সামনে কাকে ভোট দিবেন? বাসায় আসবেন কিন্তু। আরে গতবার যে এমপি ছিল আমাদের এলাকায়, তার ভাতিজা। ছেলে এখন আমেরিকায়, প্রস্তাবটা ভালোই। অনেকদিন ভাবীর হাতে রান্না খাই না। উনাকে সালাম দিবেন।

ট্যাগে লেখা শব্দগুলোও উঠে আসে আড্ডায়। সারা জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে শব্দগুলো পুনর্মূল্যায়ন করেন তারা।

বেলা বাড়ে। হাঁপিয়ে উঠেন এক সময়। যে যার বাসার দিকে রওনা হন সবাই।

একজন বাদে।

- সিকোয়েন্স চার -

ডাইনিং রুম। দুপুর বেলা। শব্দ নেই।
খাবার টেবিলে প্লেট সাজানো। মুড়ি রাখা তাতে।
টেবিলের একপাশে খবরের কাগজের স্তুপ।
প্লেটের পাশে রাখা সেই ছেড়া ট্যাগগুলো।
একটু দূরে আঠার কৌটা। মুখ খোলা।



[- পরবর্তী কিস্তি : ভাবনার স্প্রে ০০২ - ]

Thursday, March 23, 2006

মাণিক্যচিপায় আটক স্বপ্ন বিষয়ক শেষ গিমিকাব্য


অর্থবছরের শুরুতেই ক্যাচাল বাধে৷
অর্থমন্ত্রী জানান, ভিনদেশী বিজাতীয় স্বপ্নে জর্জরিত দেশবাসী৷
তাই স্বপ্ন খাতে আমদানি শুল্ক ও ভ্যাট আরোপ করা হলো৷
দেশবাসীর মঙ্গল হবে তাতে৷

যথারীতি মধ্যবিত্তরা গাঁইগুঁই করেন৷
যথারীতি স্বপ্নমন্ত্রী উত্তরাধুনিক তাফসির শোনান৷
যুগ বদলাইছে৷ বলেন, বদলায় নাই?
এই ভ্যাটারোপের আগে আপনাদের অর্থমন্ত্রী
উনার নীতিনির্ধারক দল নিয়া তিন তিন বার
আমেরিকা (র.) দেশে রাষ্ট্রীয় সফর কইরা আসছেন৷
সফরকালে তিনারা দেখছেন,
সেইখানেও এই সিস্টাম চালু আছে৷
আর আপনেরাই বলেন, এই যুগে কেউ আমদানি কইরা স্বপ্ন দেখে?
সময় মতন স্বপ্নই তো আপনাদের দেইখা নিতেছে৷
বলেন, নিতেছে না?
আল্লার কিরা৷গুগলে সার্চ কইরা দেখেন৷
অতএব
আসেন আমরা মুক্তচিন্তা করি।
আসেন আমরা সময়ের সাথে আগামীর পথে হাঁটি৷

আনন্দে হাতে-পায়ে তালি দেন জনগণ৷
গুগল ডট কমে সার্চ করেন জনগণ৷
সত্যতা যাচাই করেন জনগণ৷
করে হাঁপ ছাড়েন৷
ছেড়ে শান্ত হন৷

এদিকে
মুখ চাপেন, চেপে হাসেন দেশী করপোরেট বণিকরা৷
দেশী স্বপ্ন এবং বিদেশী স্বপ্নযন্ত্র কিনতে
এক ঐতিহাসিক মানবিক বিজ্ঞাপন তৈরি হলো৷

নৌকায় চড়ে, পথের ক্লান্তি ভুলে, মায়ের জন্য
স্বপ্নযন্ত্র (কিনে) নিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞাপন-বালক৷
স্বপ্নযন্ত্র পেয়ে বিজ্ঞাপনের মা খুশি৷
করপোরেট বণিক খুশি৷
বিজ্ঞাপন নির্মাতা খুশি৷
মিডিয়াবাহিত দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত
দর্শকবৃন্দ খুশি৷
যে যার কারণে খুশি৷

স্বপ্নকে বাণিজ্যপণ্য করে এ ধরনের স্বপ্ন ফাঁদার
ফোড়ন কাটেন ক-চ-ট-ত-প সমালোচনাজীবীরা৷
অমনি--
মিয়া ভাই, নয়া আইলেন নাকি এই লাইনে?
মিয়া ভাই, স্বপ্ন বাণিজ্যপণ্য ছিল না কুনদিন?
মিয়া ভাই, আরেক কোম্পানি থেইকা কত খাইলেন?
মিয়া ভাই, স্বপ্নদোষ হয় নাকি?
ধুর মিয়া, খালি স্বপ্নযন্ত্রটাই দেখলেন৷
ওইটা তো স্রেফ উছিলা৷
মাতৃভক্তিটা দেখেন৷
দেইখা শিখেন৷

বাহ! এমন সুযোগ আর কে পায়?
স্বপ্নযন্ত্রও কেনা হইলো৷ মাতৃভক্তিও দেখানো হইলো৷

অতঃপর
স্বপ্নলিংক্ড হন সবাই৷
সবাই মানে লিংক্ড হলেন না যারা, তারা বাদে৷
টেকনিক্যালি লিংক্ড হওয়া আর কি৷

উঠতি মধ্যবিত্তরা-- অবসরে যারা
সুশীল সমাজের সভ্য হবার স্বপ্ন দেখার চর্চা করতেন,
মাণিক্যচিপায় পড়লেন তারা৷
মিনিটপ্রতি স্বপ্নচার্জ নাগালের বাইরে৷
পিক আওয়ারে মোটেই স্বপ্ন দেখা যাচ্ছে না৷
ফাজিল শুল্ক! দুষ্টু ভ্যাট!
ক্রিকেট ভ্যাট!

রুটিমদ ফুরিয়ে যাবার আগেই প্রিপেইড স্বপ্ন ফুরিয়ে যায়৷
স্বপ্নবাস্তব কবিতা ছেড়ে লিখকরা নামলেন
অতি-বাস্তব সংলাপসমৃদ্ধ প্যাকেজ নাটক লিখায়৷

এমতাবস্থায়
দেশী বণিকদের কুমির-দয়া হলো৷
তারা হেভিচালুআইডিয়া চালু করলেন৷
তারা ১০ সেকেন্ডের পালস চালু করলেন৷

নয় সেকেন্ডব্যাপী স্বল্পদৈর্ঘ্য বাংলাস্বপ্ন জনপ্রিয়তা পেল৷
কাসুটি জিন্দেগি ছেড়ে বিকল্পধারার স্বপ্ন বন্দেগি শুরু হলো৷
মেগাসিরিয়াল স্বপ্ন, শেষ-হইয়াও-হয়-না-শেষ৷
ব্যস্ত নাগরিক, হাল ছেড়ো না৷
ব্যস্ত নাগরিক, জানি তুমি পারবেই৷
ব্যস্ত নাগরিক, একদিন শেষ হবেই৷
সুম্মা আমিন৷

এতদসত্ত্বেও
স্বপ্নক্রয়ে অসমর্থ তরুণ ব্রাত্যজনেরা
মিসকল দিয়ে কাজ সারেন৷
এক বার মিসকল সমান আই মিসিউ৷
দুই বার মিসকল সমান জাতীয় সঙ্গীতের দ্বিতীয় লাইন৷
তিন বার সমান আই নিডিউ৷

স্বপ্নসচিব জেনে যান বিষয়টা৷

ফেডারেশন অব প্রিমিয়াম ড্রিম ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম-সম্পাদকের অনুযোগ :
বালছাল লোকজনরা খালি মিসকল দেয়৷
তাতে খালি নেটওয়ার্ক জ্যাম হয়৷
তাতে খালি স্বপ্ন ঝিরঝির করে৷
তাতে পরিস্কার দেখা যায় না৷
তাতে তাদের (ত-এর ওপর চন্দ্রবিন্দু বসবে) বেশ সমস্যা হয়৷

বলেন কী!
ইয়া নাফসি!
মাই গুডনেস!
এ তো শুধু সমস্যা না, রীতিমতো প্রবলেম৷
স্বপ্নসচিব চোখেমুখে দুঃস্বপ্ন দেখেন৷

পরদিনই শহরের বিলবোর্ড বদলে যায়৷
আসেন ভাই হাত লাগাই৷
মিসকলকে না বলে দেশ বাঁচাই৷

দেশ বাঁচে না৷

অতঃপর
মন্ত্রিবর্গ দ্বারা আদিষ্ট হয়ে প্রকৌশলীবিদ
দেশজুড়ে রাস্তার ধারে গণস্বপ্নাগার বানান৷
এই প্রথম সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি৷
এই প্রথম স্বল্পমূল্যে দূষণমুক্ত পরিবেশবান্ধব স্বপ্ন কেনা ও দেখা যাবে৷
লাখ টাকার স্বপ্ন এখন এক টাকা পনেরো পয়সা৷ ভ্যাটসহ৷
শায়খ স্বপ্ন মাত্র দুই টাকা তিরিশ পয়সা৷ ভ্যাটসহ৷
অন্যকে স্বপ্ন দেখানোর স্বপ্ন তিন টাকা পয়তাল্লিশ পয়সা৷ ভ্যাটসহ৷
প্রতি স্বপ্নের সাথে দেশী এনজিও মিনিপ্যাক স্বপ্ন ফ্রি৷

এবং
সবশেষে
জনগণকে মুক্তি দিতে
বামপন্থীরা এগিয়ে এলেন৷
সংগ্রামী সাথীদের লাল সালাম ঠুকে তারা ডাক দেন,
বুর্জোয়া স্বপ্নবাজদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে হবে৷
তথাকথিতবিশ্বায়নবিরোধী প্রতিবাদী স্বপ্ন দেখতে হবে৷
তারা আরো বললেন,
বলার চেষ্টা করলেন,
গণস্বপ্নাগারগুলো আসলে শাসক ও শোষকশ্রেণীর যন্তর-মন্তর ঘর৷

লাভ হলো না৷

ততক্ষণে সবার মগজ-ধোলাই হয়ে গেছে৷
যথারীতি পরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী৷

- ইশতিয়াক জিকো, ঢাকা, ২ মার্চ ২০০৬
_________________________
গিমিকাব্য নোট : গিমিকাব্য প্রচলিত অভিধানের বাইরে থেকে আমদানিকৃত শব্দ। 'গিমিক' (gimmick) আর ‌'কাব্য' এক করলে নামকরণে একটা ভাব আসে৷ কবিতা হয়েছে কি হয়নি, তার কূটতর্ক থেকে আপাত রেহাই পাওয়া যায়৷এ কাব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দের টীকা দিলে ভালো হতো৷ কিন্তু ‘এত-ভালো-দিয়ে-কী-হবে’ মানসিকতা কাজ করায় টীকা সংযুক্ত করা হলো না৷

অলঙ্করণ নোট: ম্যাথেমেটিকা সফটওয়্যার দিয়ে গামা ফাংশনের (ডানে) এই ত্রিমাত্রিক চিত্র আঁকা হয়েছে৷ মাণিক্যচিপায় আটক এই ফাংশনটি বিশুদ্ধ গণিত শিক্ষার্থীদের খুব দংশন করে৷ছবির ঘনাকার বাক্সখানিও (বাঁয়ে) গাণিতিক সমীকরণের অধীনে অঙ্কিত৷ বাকি কাজ ফটোশপের দয়া।

ইন্টারনেট প্রকাশনা নোট : এই গিমিকাব্যের প্রথম প্রকাশ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ ব্লগ সাইটে, ২ মার্চ ২০০৬-এ। দ্বিতীয় প্রকাশ এখানে। খানিকটা পরিবর্তিত আকারে।

Monday, January 30, 2006

সাক্ষাৎকার : মসিহ্উদ্দিন শাকের

মসিহ্উদ্দিন শাকের। 1979 সালে নির্মাণ করেছেন 'সূর্যদীঘল বাড়ী', শেখ নিয়ামত আলীর সঙ্গে। বাংলাদেশের সিনেমা ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য কাজ এটি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার পায় ছবিটি। সদ্যসমাপ্ত নবম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ছবি বাছাই কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি। ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট সিনেমা বিভাগের বিচারকও।

উৎসব চলাকালে পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে পেয়ে যাই তাকে। আড্ডা চলে অনেকক্ষণ। উৎসবে ছবি বাছাই, উৎসব নিয়ে তার টুকরো স্মৃতি, দেশের চলচ্চিত্র আন্দোলন -- এরকম নানা প্রসঙ্গ চলে আসে কথায় কথায়। সেখান থেকে কিছু কথা :

জিকো : এ উৎসবে ছবি বাছাইয়ের বেলায় কোন বিষয়গুলো বিবেচনা করেছেন?
ম. শাকের : বাছাইয়ের সময় প্রথম দেখেছি, কোনো ছবি যেন দেশীয় মূল্যবোধকে আহত না করে। ছবির চিত্রনাট্য, ক্যামেরাশৈলী, সম্পাদনা, তার শিল্পগুণ -- এভাবে আলাদাভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে দেখা হয়েছে। আর অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ায় গত দু বছরে নির্মিত সিনেমাগুলোর কয়েকটি প্রতিযোগিতা বিভাগে স্থান পেয়েছে।

জিকো : উৎসবে দেখানো ছবির মান নিয়ে কিছু বলুন।
ম. শাকের :সবগুলো আপ-টু-দ্য-মার্ক নয়। আর আমাদের উৎসবে যে অনেক ছবি জমা পড়ে, তাও না। নানা দেশ থেকে দু'শোর মতো ছবি জমা পড়ে, সেখান থেকে হয়তো দেড়শো ছবি বাছতে হয়। তারপরও বলবো, ভালো কয়েকটা ছবি এসেছে এবারের উৎসবে।

জিকো : আমাদের এখানে কেন ভালো ছবি জমা পড়ে না?
ম. শাকের : কারণ তো অনেকগুলো। ঢাকায় এই যে ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল হচ্ছে, কজন রাখেন এ খবর? কান, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মতো আমাদের তো এত বড় আকারের হয় না। সেসব ফেস্টিভ্যালে সিনেমাটি 'মনোনীত' হয়েছে -- শুধু এ দিয়েই অনেক সিনেমার বাণিজ্যিক প্রমোশন করা হয়। দ্বিতীয় সমস্যা ছবি সেন্সরিং নিয়ে। বাইরের দেশের নির্মাতারা যখন দেখবেন, উৎসবে তার ছবি বাছাইয়ের পরও সরকারি সেন্সর বোর্ডের কাচির নিচে যেতে হয়, তাহলে কেন তারা ছবি জমা দেবেন? বিদেশের আর কোনো ফেস্টিভ্যালের ছবিতে এরকম সরকারি সেন্সর হয় না। ফেস্টিভ্যালের ছবি বাছাইয়ের পর সরকারি সেন্সর বোর্ডের ভূমিকা অর্থহীন। সেন্সর বোর্ড তুলে দেয়া উচিত। আরেকটা ব্যাপার, বড় ফেস্টিভ্যালগুলোতে ছবি প্রদর্শনের জন্য নির্মাতাকে সম্মানী দেয়া হয়। আমরা তা দিতে পারি না। আমাদের বাজেট সীমিত থাকে। প্রযোজকরা তাই আগ্রহী হন না। এছাড়াও এয়ারপোর্টে ফিল্ম রিল আটকে রাখে। কাস্টমস ঝামেলা করে। সরকারি গোয়েন্দারা ফেস্টিভ্যালে নাক গলায়।

জিকো : বিদেশের ফেস্টিভ্যালের ছবি মনোনয়ন নিয়ে আপনার মন্তব্য --
ম. শাকের : বিদেশের বড় বড় ফেস্টিভ্যালে ছবি মনোনয়ন এবং পুরস্কারের স্বচ্ছতা নিয়েও আমার দ্বিধা আছে। খোদ কান ফেস্টিভ্যাল নিয়েই নানা কথা কানে এসেছে। নাম বর্লিছ না। ধরা যাক : ক, খ, গ তিন দেশের তিন বিচারক। এখন 'খ' দেশের ছবি হয়তো পুরস্কার পাবার যোগ্যতা রাখে না। কিন্তু খ দেশের প্রতিনিধির লবিংয়ে সেটা পুরস্কার পেয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা কান ফেস্টিভ্যালের মতো জায়গায় হয়।

জিকো : আপনার ছবি তো জার্মানিতে পুরস্কার পায়। সেখানকার অভিজ্ঞতা নিয়ে কিছু বলুন।
ম. শাকের : 'সূর্যদীঘল বাড়ী' জার্মানির ম্যানহেইম ফেস্টিভ্যালে তৃতীয় হয়। 1980 সালের কথা। ছবিতে মানবিক আবেদনের জন্য ক্যাথলিক ও প্রোটেস্ট্যান্ট -- দুই জুরি কমিটিই ছবিটির পক্ষে আলাদাভাবে রায় দেয়। পরে সুইজারল্যান্ডের বিচারকের কাছ থেকে শুনেছি, আন্তর্জাতিক জুরিবোর্ডের আরেক জার্মান সদস্য জোর করে পোল্যান্ডের সিনেমাকে প্রথম করেছে। সে কারণটা রাজনৈতিক। পোল্যান্ডের গদানস্কে তখন সলিডারিটি আন্দোলন চলছিল। আর পোল্যান্ডের সে ছবি ছিল অ্যান্টি-কমিউনিস্ট। সিআইএ-এর প্রভাবে জার্মান সরকার সিদ্ধান্তটা নেয়। পোল্যান্ডকে প্রথম করে জামার্নির পক্ষে আনার চেষ্টা করেছিল জার্মান সরকার।

জিকো : উৎসবের প্রসঙ্গে ফিরে আসি। এ নিয়ে নয় বার ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব হয়ে গেল। দর্শক কি বেড়েছে?
ম. শাকের : ফেস্টিভ্যালে চলচ্চিত্রানুরাগী দর্শকদের সমাগম বাড়ছে। এর কারণ হয়তো মূলধারার ছবির বর্তমান দৈন্যদশা। তবে সাধারণ দর্শকরা কিন্তু সে অনুপাতে আসছেন না। কেন আসছেন না, তার কারণটা আরও গভীরে। সেটা শিক্ষায়। শিক্ষার ন্যূনতম স্তর পার তো হতে হবে, তারপর সিনেমার ভাষা বোঝার ব্যাপার আসে। আবার ইংরেজি সাবটাইটেল পড়ে অর্থ উদ্ধার করতে পারেন না অনেকে।

জিকো : উৎসবের মান কি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে?
ম. শাকের : না, তেমনটি বাড়ছে না। দু-চারজনের উদ্যোগেই প্রতিবার ফেস্টিভ্যালগুলো আয়োজন হচ্ছে। অন্যান্য সমস্যাও আছে। প্রতি ফেস্টিভ্যালে নতুন চলচ্চিত্রকর্মীরা আসেন। আগের কর্মীরা হারিয়ে যান, নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে যান। এখনকার কর্মীদের মাঝে ডেডিকেশনের অভাব আছে। চলচ্চিত্রকর্মীরা যেন রাজনীতিবিদদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। রাজনীতিতে দলাদলি, ফিল্ম সোসাইটিতেও দলাদলি। দলাদলির এ রাজনীতি সংস্কৃতিতে প্রভাব ফেলছে।

জিকো : উৎসবের শ্লোগান 'বেটার ফিল্ম, বেটার অডিয়েন্স, বেটার সোসাইটি'। ভালো চলচ্চিত্র কি ভালো সমাজ গড়তে পারে?
ম. শাকের : পারে, তবে একা পারে না। সামগ্রিকভাবে দেশের রাজনীতি-অর্থনীতি যদি ভালো না হয়, তবে ভালো চলচ্চিত্রই আশা করা যায় না। ভালো সমাজ গড়ার প্রশ্ন আরো পরে আসে। আমরা কখনও কখনও ভাবি, কালচার পলিটিক্সকে নিয়ন্ত্রণ করুক। সেটাও ঠিক বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা নয়। রাজনীতির ক্ষমতা যাদের দখলে, তারাই সংস্কৃতিতে আধিপত্য করছে। রুলিং ক্লাশ কালচার ইজ দ্য ডোমিনেটিং কালচার, কাল মার্কসের কথা এটি।

জিকো : আমরা কি তবে আশাবাদী হবো না?
ম. শাকের : আশাবাদী হতে হবে। এখনকার সংস্কৃতি আন্দোলনগুলো সরকারের দখলে। সুস্থ চলচ্চিত্রকর্মী, সংস্কৃতিকর্মীদের রাজনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হলে চলবে না। সংস্কৃতির ভালো চাইলে সংস্কৃতিকর্মীদের 'পলিটিক্যাল ফাইট' দিতে হবে।

------------------------------------
ইশতিয়াক জিকো / 22 জানুয়ারি 2006 / ঢাকা

[নোট : সাক্ষাৎকারটি প্রথম ছাপা হয় নবম ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের 'প্রতিদিন উৎসব' বুলেটিনে । এবার উৎসব বুলেটিনের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলাম। শেষ অনুচ্ছেদের বোল্ড করা অংশটি প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের শিরোনাম ছিল। কিছুটা পরিমার্জিত।]

Wednesday, June 30, 2004

Ten popular mistakes for writers

Like me, do you think yourself as a good writer?

Well, then you must love mistakes. Because good writers do that frequently in their manuscripts. Otherwise why the post "Editor", "Copy Editor", "Proof Reader" for?

Anyway, recently I read an article at Holt Uncensored about 10 common mistakes writers don't see. I just can't resist myself to share the tips with you:

1. Don't repeat the same word or phrase.
Repeated words are crutch word. Like Hillary Clinton's crutch word, in her Living History, is "eager". Cosmopolitan magazine editor Kate White uses "quickly" over a dozen times in A Body To Die For. And "Notes From Dystopia" editor Ishtiaque repeats the word "share" many times in his blogs. Replace your crutch word with some appropriate synonym.

Telling again, don't repeat the same word or phrase. :)

2. Stop flat writing.
This blog is the best example to understand the "Flat writing". Text is monotonous. It dies on the page.

Flat writing is a sign that you've lost interest and inspiration by your own narrative. So when you see flat writing on the page, it's time to rethink, refuel and rewrite.

3. Remove empty adverbs.
Actually, Basically, apparently, totally, absolutely, completely, continually, constantly, continuously, literally, really, unfortunately, ironically, incredibly, hopefully, finally...

You think these words promise emphasis, but too often they do the reverse. They suck the meaning out of every sentence.

4. Be careful of using dialogue.
Avoid words that are fashionable in conversation.


Dialogue offers glimpses into character the author can't provide through description. Hidden wit, thoughtful observations, a shy revelation, a charming aside all come out in dialogue, so the characters show us what the author can't tell us.


5. Minimize *ize.
Finalize, conceptualize, fantasize, deoxidize, categorize, statementize -- The "ize" hooks itself onto words as a shortcut but stays there like a parasite.

Use less *ness.
The "ness" words cause the eye to stumble, come back, reread: mindlessness, characterlessness, courageousness, statuesqueness, preciousness...

Don't use *ingly unnecessarily.
cuttingly, winningly, startlingly, harrowingly, angeringly, careeningly, groundbreakingly - all hell to pronounce, even in silence.

Not all these suffixes are bad always, just use them rarely.

6. Don't use "To be" words frequently. Am, Is, Was, Are, Were, Be, Being, Been etc.

I am liar. You are buyer. It is tyre. I am here. You are there. It was Qeta who blogged yesterday. It was Emily who dreamed to be a journalist, It was Ishtiaque who thought himself intellectual.

Flat, flat, flat writing. So don't squander the "to be" words - save them for special moments.

7. If you're going to describe a number of items, jack up the visuals.

8. Show, don't tell.
Handsome, attractive, momentous, embarrassing, fabulous, powerful, hilarious, stupid, fascinating are all words that don't describe in specifics what is unique to the person or event described. Often they begin with clichés.

9. Beware of Awkward Phrasing.
Always give your work a little percolating time before you come back to it.

10. Use, Commas, correctly.
You may break the rules to use comma from time to time, but you can't delete commas just because you don't like the pause they bring to a sentence or just because you want to add tension.

Oh, thanks Biz Stone for the link of the article.