Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Monday, August 10, 2009

কবিতা : প্রকৃত সারস মোহে

নগরের বেষ্টন কৃত্রিম
জানি তবু মায়াজাল
বুনে থাকি নগরেই

প্রকৃত সারস মোহে
ঢাকা ছেড়ে রাতভর
বর্ষায় টেকনাফ যমুনা

যাপিত প্রকৃত প্রেম
কাছে এলে কামাতুর
কৃত্রিম খাদমেশা আলেয়া

সব ফেলে স্মৃতিসহ
ডুবে যাই প্রকৃতই
মানুষের কৃত্রিম বেষ্টনে

সব ফেলে
__________________________________
খসড়া ৪.০ / ইশতিয়াক জিকো / ১০ আগস্ট ২০০৯ / ঢাকা

Saturday, August 8, 2009

দিনলিপি : অনুতাপ

মাথা বিগড়ে গেলে
এসএমএস পাঠাই
যাচ্ছেতাই

মর্ত্যে ক্ষমা মেলে না

অনুতাপে অস্থিরতায়
যাপিত জীবন

সে কি কেবলই
যা ত না ম য়?
__________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ৮ আগস্ট ২০০৯, ঢাকা

Saturday, February 14, 2009

কবিতা : রান আউট

আছড়ে পড়ছে যাবতীয় বেবি লাইট দেয়ালে শৈল্পিক
টিকটিকির ওপর যিনি হাজার বছর ধরে হাঁটিতেছে
আলোছায়া করিডোরে আর সোলার পাঞ্জা এইচএমআই
মেতেছে যুক্তিতক্কে পরের দৃশ্য নিয়ে নিশ্চল তেপায়ায়
বুড়ো ক্যামেরা উপভোগ করে ম্যাগাজিন রান আউট
_____________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ঢাকা

Friday, January 2, 2009

২০০৯ : ভবিষ্যতের স্মৃতি

_____টিকে থাকবে কাগুজে ডায়েরি
_______তেলাপোকার মতো;
২০৪৬ এর ফেলে আসা_____
কল্পকাহিনী শোনাতে _____
_________শোনাতে____
বুড়িয়ে যাবেন ওং কার ওয়াই___
___বছর শেষের কবিতা ফেসবুকে আপলোড
করবেন সুব্রত গোমেজ, ল্যাপটপে আশিক
_____মোস্তফা; দ্বিমাত্রিক খাঁচায় ধরা দেবে
সুশীল কম্পোজিশন, শহুরে প্যাঁচার____
আস্ফালনে মনিটরে ভোর হবে______
______রিকশাবিহারে হাজারো ইচ্ছার
___অবদমন হবে ৫ সিসি বীর্যপাতে
_________________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১~২ জানুয়ারি ২০০৯, ঢাকা

Wednesday, December 10, 2008

কবিতা: ট্রোজানের ঘোড়াগুলি

শুটিং শেষে ঢাকায় ফিরেই
স্মৃতিজুড়ে আক্রমণ
ট্রোজান ঘোড়ার

ট্রোজানের ঘোড়াগুলি থেকে
জন্ম নেয় এক দলা কালিয়াকৈর
এবং স্মৃতিতে টাকিলা

হায় স্মৃতি, পেনড্রাইভ, হায়
আবারও ফরম্যাটের শিকার

- ইশতিয়াক জিকো / ১০ ডিসেম্বর ২০০৮, ঢাকা
___________________________
নোট: গাজীপুর কালিয়াকৈরে দুই কিস্তিতে শুটিং হলো 'মেহেরজান ১৯৭১' সিনেমার। শুটিং আরও বাকি। কত টুকরো স্মৃতি।

Friday, August 22, 2008

কবিতা : কেউ কেউ হারিয়ে যায়

আয়নায় তাকালে
সাগরের ঘ্রাণ পাই
থাকি শহরতলীতে
তিন তলায়

অনেক এসএমএস
উত্তরহীন
কথা রাখেনি কেউ

রাখে না
আমার মতো

__________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২২ আগস্ট ২০০৮ / ঢাকা

Friday, August 1, 2008

সম্পাদিত: কথার সিনেমা

ফুটেজ
শট ১: কম্পোজিশনে সমকালীনতা
শট ২: ফেইসবুকে বাড়ে বন্ধু সংখ্যা
শট ৩: ধাতব আওয়াজে ছাপা হয় ব্যথা
শট ৪: ব্যথা কমে গেলে এডিট করুন


প্রথম কাট
ফেইসবুকে ছাপা ধাতব বন্ধু ব্যথা
সমকালীনতা কম্পোজিশনে এডিট
কমে গেলে ব্যথা আওয়াজে সংখ্যা বাড়ে


দ্বিতীয় কাট
ফেইসবুকে ব্যথা সমকালীনতা
কম্পোজিশনে কমে গেলে ছাপা
বন্ধু আওয়াজে ধাতব সংখ্যা বাড়ে


তৃতীয় কাট
ধাতব আওয়াজে সমকালীনতা
ফেইসবুকে কমে বন্ধু সংখ্যা
কম্পোজিশনে ছাপা ব্যথা বাড়ে
___________________________
চিত্রনাট্য, শব্দগ্রহণ, সম্পাদনা : ইশতিয়াক জিকো
চিত্রগ্রহণ : পাঠক
বিশেষ কৃতজ্ঞতা : ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কর্তৃপক্ষ

একটি '১ জুন ২০০৮' পরিবেশনা

Sunday, December 23, 2007

জোড়া কবুতর

১.
সানশেড ঘেঁষে কবুতরটি
ঝুলছিল কারেন্টের তারে
রোদসকালে
মৃত

সঙ্গীটি তার
পাহারায় আর অসহায়
আমার ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে

- ৭ ডিসেম্বর ২০০৭, ঢাকা

২.
সানশেডঘেঁষা মৃত কবুতর
মাথার ভেতর আমাকে
ব্লক করে রাখে
ব্লক করবো আমিও
তোমাকে, এমএসএনে

- ২১ ডিসেম্বর ২০০৭, ঢাকা

Thursday, November 15, 2007

কবিতা : প্রজাপতিটা

একটা প্রজাপতি আমার
পড়ার ঘরের বাইরে
ছোট্ট ফুল গাছে
বসে আছে চুপ করে

ভাবি, এই বুঝি উড়ে যাবে
প্রজাপতিটা ফুরুৎ করে
এই বুঝি

কাছে যাই, দেখি
ডানা দুটো ভাঙা তার
___________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৬ আগস্ট ২০০৫, ঢাকা

Friday, October 26, 2007

যে কারণে তোমাকে আর চিঠি লিখি না

১.
তোমাকে একটা চিঠি লিখবো আজ।

কিন্তু কী লিখবো? খসড়া করা যাক।

প্রথমত, লিখতে পারি, আমাদের দুজনের মিল। সঠিক করে বললে, 'ঋণাত্মক অমিল'। গাণিতিকভাবে সিদ্ধ হলো কথাটা। হলো তো?

দ্বিতীয়ত লিখবো, তাৎক্ষণিক ভাবনা কোনো। ঠিক এই মুহূর্তের ভাবনা, যা আসে মাথায়, খপ করে ধরবো, আর লিখে ফেলবো। বেশি ভাবলেই যুক্তির ছুরির তলে চলে যাবে ভাবনা। কে-কী-কেন-কখন-কোথায়-কিভাবে প্রশ্নগুলো ধর্ষণ করবে সদ্যজাত ভাবনাকে, মাথার ভেতর। আমি, নৈতিকভাবে, তার বিপক্ষে।

তৃতীয়ত, বলে নিই, এইসব প্রথমত-দ্বিতীয়ত ক্রম মেনে চিঠি লিখা যায় না।

চতুর্থত বলে কিছু নেই। আপাতত।

২.
কিন্তু কেন লিখবো তোমাকে?
আবার পড়ো উপরের প্রশ্নটা।

এবার তুমি যদি জোর দাও কেন শব্দে, তার মানে প্রশ্নে আমি জানতে চাইছি তোমাকে লেখার কারণটা।

যদি জোর দাও লিখবো শব্দে, বাক্যের মানে কিন্তু পাল্টে যায়। মানে হলো এখন, তোমাকে ফোনে-ফেসবুকে-ম্যাসেঞ্জারে না বলে কেন লিখবো?

আর যদি জোর দাও তোমাকে শব্দে, তখন অনেক বিকল্প 'তুমি' ঘিরে ধরবে তোমাকে। কেন এ সময়টুক, চিঠিখানি অন্য কোনো 'তোমাকে' নয়? ইত্যাদি।

এভাবে আমার প্রতিটি বাক্যপাঠে তুমি ভুল বুঝতে পারো আমাকে। তবু লিখবো আমি।

কী? জ্ঞান দিচ্ছি বলে রেগে যাচ্ছো?
রেগে গেলে তো হবে না।
যাও, রেগে যাও।

লিখলাম না আর চিঠি।
_______________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৬ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Thursday, October 25, 2007

কবিতা : গভীর রাতে বেণীমাধব

তুমি এখন অনেক বড়
নতুন কিবোর্ড কম্পুছানা,
নেটের ভেতর ই-বুক হাজার
দিদিমণি দেয় না হানা।

সেলাই দিদিমণির খবর
জয় গোস্বামীর বইয়ের ফাঁকে,
বেণীমাধব নবম শ্রেণী
গভীর রাতে তোমায় ডাকে।

______________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৫ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Friday, October 19, 2007

গিমিকাব্য : আমাদের মুরগি-আলাপ

আমরা যখন মুরগি-আলাপে মত্ত
টিভি পর্দায় সব কাক যায় উড়ে
ঘোড়াগুলি নাচে মহীনের সিডি খাপে
গান ভেসে আসে মেঘমল্লার সুরে

____________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৯ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Monday, August 13, 2007

গিমিলাপ : অবু টিলো আলাবু ভোকাট্টা

অবু | বড়াই
কাজে মগ্ন তুমি, বলবে দূর হ, অথবা জাহান নাম, আমি এক ঘুরান, এসে বলবো, কী বলবো, ধরা যাক লোডশেডিং, অমনি ডিসি খাবো, ইয়াহু থেকে, আর মশা খাবে আমাকে, যেহেতু ডিনার টাইম, খেয়েদেয়ে মনিটরের লেখাগুলো একশো, তা কেন, একশো বিশ পারসেন্ট বড় হবে।

টিলো | ক্যালকুলাশা
যত ছোট হোক এপসিলন
ঠিক মিলে যাবে ডেলটা

আলাবু | পরোটাভাজা
তোমরা খাচ্ছো ঠাণ্ডা কোলা
থাকছে বাকি কাপড় খোলা
আমরা হালায় সাধু সাজি
শা'বাগ মোড়ে পরোটা ভাজি

ভোকাট্টা | অনুমানবাক্য
দাড়ি রাখা সুন্নত।
ডারউইন দাড়ি রাখেন।
ডারউইন সুন্নত পালন করেন।

__________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৩ আগস্ট ২০০৭, ঢাকা

Thursday, July 26, 2007

গিমিকাব্য : জন্মদিন

হলুদ ট্যাক্সিক্যাব থেকে বেরুচ্ছে আজ সবুজ রঙের ধোঁয়া,
গান শোনার যন্ত্রটায় ব্যাটারি ফুরিয়েছে দিন দশেক আগে,
তবু স্কচটেপ-প্যাঁচানো বেগুনি হেডফোন কানে গুঁজে
দাঁড়িয়ে থাকি আইল্যান্ডে,
বৃষ্টির অবতারণা সেই সকাল থেকে, শহরজুড়ে,
রিসাইকেল বিনে লুকিয়ে রাখা স্মৃতিগুলো ভেসে গেছে বন্যায়,
এনজিওধারারচলচ্চিত্রের সমালোচনা শুনবো বলে
ডিসপোজেবল কলম কামড়ে ভাস্কর্য বানানোর প্রতিযোগিতায় নামি,
ভাঙা হাতপাখা বিলিয়ে দিই বিপত্নীক ট্রাফিক পুলিশদের মাঝে,
লোডশেডিংয়ের সময় এডিটিং প্যানেলে বসে
উদাসীনভাবে ফ্রেমের পর ফ্রেম কাটি,
আর জন্মদিনজন্মদিন বলে চেঁচিয়ে ওঠে
নবনিযুক্ত বিভাগীয় সম্পাদক,
তাতে হুশ হয়, শেষ ফ্রেমে এসে
শুভেচ্ছা জানাই ভাস্করকে।

- ইশতিয়াক জিকো / ২৬ জুলাই ২০০৭

Friday, July 6, 2007

কবিতা : বৃষ্টি চাই না

আমরা শুধু সুখই খুঁজি
তাই ঝমঝম বৃষ্টি চাই না

বৃষ্টি নামলে আকাশ কালো
ধুলোর নৃত্য যায় পালিয়ে

ধুলোর নিচে যত্নে মোড়া
ব্যক্তিগত দুঃখ স্মৃতি

বৃষ্টি চাই না এই বরষায়
পারলে তুমি < সূর্য > দিও

- ইশতিয়াক জিকো / ৬ জুলাই ২০০৭
_________________________
নোট : কবিতায় স্বাধীন চলকের স্বাদ নিন। শেষ লাইনে < সূর্য > শব্দ পাল্টে বিষটি, বজ্র, ধুলো অথবা যা ভাল্লাগে, মর্জিমতো বসিয়ে দিন।

Monday, July 2, 2007

গিমিকাব্য : আসুন আমরা ছন্দোবদ্ধ হাঁসের ডিমে তা দিই

কাব্য
ব্লগ যদি ডিম হয়, আমি হবো হাঁস,
মিলেমিশে করবো ব্যান্ডউইথ নাশ।
ডিম যদি ব্লগ হয়, পাতিহাঁস আমি,
নেটে জল ঘোলা হবে করে বাঁদরামি।
যদি আমি হাঁস হই, ব্লগ হতো ডিম,
খুব করে মাখতাম হেনোলাক্স ক্রিম।
আমি যদি ডিম পাড়ি, হাঁস করে ব্লগ,
নির্ঘাৎ অজ্ঞান হতো বুলডগ।

গিমিক
ছন্দ-ছড়ার দোহাই দিয়ে খুব তো হেনোলাক্সের বিজ্ঞাপন ফাঁদলেন! কী? এটা পোস্টমডার্ন, পোমো সাহিত্য? আমাকে শেখাচ্ছেন ওসব? কিছু না হলে শেষে পোমো লেবেল লাগিয়ে দেন, আর ভাবেন উতরে গেলেন খুব। দুয়েক বছর সোসাইটি করে, পাঁচদশটা সিনেমা দেখে একটা চিত্রনাট্য লিখেন, গল্পের থাকে না মাথামুন্ডু, তখন বলে বেড়ান ওটা এক্সপেরিমেন্টাল, নিরীক্ষা! একচোট দেরিদাপল্টুদা শুনিয়ে দেন। আপনাদের এসব কীর্তি দেখে মাজা ব্যাথা করে।

আর আর, আপনাদের শিল্পচর্চার ধরনটা চেনা আছে। দুটো পয়সার গন্ধ পেলেই কমার্শিয়াল ব্র্যান্ড ঢোকান। আপনার প্রথম শর্ট ফিল্মটা দেখেছি তো,প্রথম দৃশ্যে কী করলেন? মাটিতে পত্রিকা ফেললেন তিনটা, তার সবগুলোই শালা প্রথম আলো। লাভ হলো কার? লুৎফুর রহমান আর মতিউরের।

এবার পোমো ছড়াটা নিয়ে হেনোলাক্স মালিকের কাছে যান। বলুন গে, হাবিবকে সুর যোজন করতে। খুব খাবে তখন লোকে।

খাওয়াতেই তো চান, নাকি?

Monday, April 9, 2007

কবিতা : আমি, তুমি, আঁধার, ব্রিজের ওপর

ব্রিজের ওপর দাঁড়িয়ে রয়েছি ঠায়
বৃষ্টি ঝরছে ঝুমঝুম নির্জন
ভাবছি তুমি এসেই পড়বে 'ক্ষণ
আসবে কখন তোমার প্রতীক্ষায়

তুমি কি আমায় নিয়ে যাবে বহুদূর
দূরের সে পথ চলে গেছে নদীমাঝে
নেবে কি আমায় একটু আপন করে
ব্রিজের ওপর একাকী অন্ধকার

তুমি বা তোমরা কে দেবে আমায় ঠাঁই
খুঁজে খুঁজে ফিরি পরিচিত কোনো মুখ
সময়ের স্রোতে অনুভূতি গেছে ভেসে
ঝাপসা চোখেতে বৃষ্টি আঁধার কালো

আমি তো জানি না তুমি ও তোমার নাম
তবুও তোমার সাথেই থাকবো আমি
নিয়ে যাও তুমি একটু কোথাও দূরে
গভীর এ রাত জীবনের মানে খোঁজে

চারপাশ কেন দ্বিধা-সংকোচে ভরা
এলোমেলো সব একাকীত্বের ভয়
তুমি মিশে যাও তুমি ও তোমার ভীড়ে
হয়তো আমিই তোমাদের কেউ নই

- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা/ 9 এপ্রিল 2007
________________________________
নোট # 4 : আরেকটু হলেই হয়ে যেত I'm with you গানের অনুবাদ। হয়নি। অথবা পারিনি। গানের কথা ভেঙেচুরে ষণমাত্রিক ছন্দে ঝুলছে এ কবিতা।

নোট # 2 : সংযুক্ত ছবিটা ফটোশপের ক্যানভাসে ব্রাশ দিয়ে ধর্ষণ করার ফসল। আজকের ঘটনা ।

নোট # 1 : আমি-তুমিওলা কবিতা পাঠে মজা নেই। এক রকম ক্লান্তিবোধ আসে। আমিতুমি ছাপিয়ে উঠে আসুক ব্রিজ, নিঃসঙ্গতা, গভীর রাত, জীবনের মানে।

নোট # 3 : কবিতাটা প্রথম লিখেছি 7 এপ্রিল। শব্দ-বাক্য পালটে নগর-সংস্করণ বের করলাম। 9 এপ্রিল।

Tuesday, April 3, 2007

গিমিকাব্য : ভ্রমণ

সবুজ আকাশ। নীলচে লিফট। ছোট ছোট বল। ভাসছিল। এক ভোরে পালিয়ে যায়, সবুজ থেকে, নীল থেকে। পাড়ি জমায় বর্ণহীন জগতে। মাত্রার বালাই নেই সেখানে। জ্যামিতি রাজত্ব করে না। রাতে হুটহাট মগডাল থেকে ঝরে পড়ে না এসএমএস। দুপুর বেলা লেকের ধারে আহত কুকুর বল খেলে।

তরুণী মশগুল হয় ফ্রেঞ্চ কাট প্রেমে। পুলিশ এসে রঙ ঢেলে দেয়। আকাশের গায়ে। সবুজ। নীল। ভাঁজ করা পুরোনো খবরের কাগজ বেঞ্চিতে এলাটিং-বেলাটিং শুরু করে। ইটবৃষ্টি। কুকুরের মাথায়।

সব চোখ ফাঁকি দিয়ে উড়ে যায় বলগুলো। অন্য কোনো বর্ণহীন জগতের খোঁজে।

- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা / 3 এপ্রিল 2007
________________________
নোট : ছবিটি তোলা 31 মার্চ 2007, মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়। বুয়েটে আর্কিটেকচার ভবনের নিচতলায় মুখ থুবড়ে ছিল কিছু প্রজেক্ট। সেখান থেকে।

Sunday, March 18, 2007

গিমিকাব্য : জলের বুকেতে যারা দাগ দিয়ে ছবি আঁকে

আফরিনা বা শিল্পকলার কাছাকাছি বসা বলেই হয়তো, রমনা পার্কে পতঙ্গের পাখা ঝাঁপটানো-আওয়াজ কেমন, ভূতুড়ে না হয়ে, শৈল্পিক শোনায়। কথোপকথন থামে না, শব্দপাখাওলা পতঙ্গের সাথে জিকোর, জিকোর সাথে পতঙ্গের, বা আফরিনার। সংলাপহীন কোলাহলে মুখরিত পার্ক।

ভোররাতে আসা দিগন্তের ফোনের কথা বিচ্ছিন্নভাবে বলে যায় আফরিনা, নন-ন্যারেটিভ ফর্ম, সিয়ার্স ক্যাফেটেরিয়া থেকে শিশু একাডেমী বা গাছতলায় মাপাসংলাপ, মনের ভেতর ভোররাত এসে নিঃশব্দে ডানা ঝাঁপটাতে থাকে, বা ঝাঁপটায় না, আদতে এসব ডানা-ঝাঁপটানিয়া ড্রিম সিকোয়েন্স কেউ খায়নি কখনও। ক্লান্তিঘুমচোখ তখন দিগন্তের খোঁজ করে। আবেগহীন ধুলোমাখা ঢাকা শহরে, হোক সেটা সাড়ে আটষট্টি একরের রমনা পার্ক, দিগন্তরেখা খুঁজতে বেশি বেগ পেতে হয় না।

পেয়ে লাভ নেই, যারা লাভ খোঁজেন তাদের জন্য বলা, আর যেখানেসেখানে এসব পাওয়া, শোনা যায়, এক রকম অভদ্রতা, আফরিনার, তাই, বেগ পায় না, হাঁচি পায়। আফরিনার নবম কিংবা দশমএকাদশদ্বাদশ হাঁচির ফাঁকে জিকো তৃতীয়বার ঢোক গেলে। চোখ ব্যস্ত হয় পতঙ্গ খোঁজায়, আর, হায়, পতঙ্গপাল, তখনও, ব্যস্ত পাখা ঝাঁপটানোয়। আফরিনা, আড়চোখ, সংলাপহীন। হাতে ওয়াটার, মিনারেল, দীপা মেহতার হাত নেই।

শিল্পকলায় দেহ ঢোকার আগে, ঘোমটা নেমে যায়, স্বেচ্ছায়, চুলগুলো অনুমতি পেয়ে বেরিয়ে পড়ে। যত্ন করে, কাটা, শ্যাম্পু করা, আঁচড়ানো, যত্ন করে, দুলছে, বিকেল চারটায়, বাতাসের দোলায়। জিকো, আড়চোখে, সংলাপহীন।

চেয়ারে প্রদর্শনীর বুকলেট, মন খারাপ করানোর দিনব্যাপী আয়োজন। বুকলেটের বুকজুড়ে প্রথমদ্বিতীয়তৃতীয় তালিকা, যেন ডেকে এনে অপমান করার আহ্বান, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে অরকুট স্ক্র্যাপ, রম্বসাকৃতি ডিজাইন, দরজা দেয়া হয়নি মডেলে। সান্ত্বনাসূচক দ্বিভাষিক বক্তৃতা অহেতুকদীর্ঘক্লিশেঅনর্থক ঠেকে, তখন বেরিয়ে আসে চৈতি, মোবাইল ফোনের পর্দায়, আর নেমে আসে ঘুম, আড়চোখে।

আড়চোখ খোঁজে ঝাপসা উইন্টার মর্নিং, আড়চোখ এবার রেন্ডারিংয়ের অপেক্ষায়, শব্দহীন, সংলাপহীন, গ্যালারিতে কোন এক ছবির শিরোনাম দিগন্ত, কী অশৈল্পিক, নন্দনফন্দন সব কি উঠে গেছে তবে পৃথিবী থেকে, নিদেন এই গ্যালারি থেকে, কথা বললেই বুঝি তার নাম সংলাপ হয়, উফ খায়রুন লো, ভোতা দাও, বুলশিট, আলফা কিউ!

এভাবে গিমিকাব্য নামের আড়ালে পালিয়ে বেড়ায় জিকো, জিকোর ভাবনা, ভাবনার সিমিউলেক্রাম। আর এইতো, দেখুন, এবার নেটে রাখা জিকোর অরকুট প্রোফাইলটা জিকোর চেয়েও বেশি বাস্তব হয়ে উঠছে। উঠুক, এসব উত্তরাধুনিক সিনড্রোম।

- ইশতিয়াক জিকো / 18 মার্চ 2007 / ঢাকা

Sunday, October 22, 2006

চিরকুট কাব্য

1
বৃষ্টি এখন শহর জুড়ে
মনের বাইরে, চোখের কোণে
রাগ করেছ? খুব কেঁদেছ?
প্রিয় প্রিয় বন্ধু আমার?
কিন্ত যখন ধরতে যাবে
অমনি আমি দৌড়ে পালাই
ভা লো বা সা র সু তো র টা নে

1.5

নেট চলে যায় চেপে রাখি দাঁত
তুমি গেছো চলে থেকে যায় রাত
বাড়াই দু হাত অন্ধকারে
আজ আর নয় কথা হবে কাল
ঝুমুর কিংবা দাদরা ত্রিতাল

2
তিনশো বারো শহীদ হল
মুরগি খেলে ফুটবল
চোখ গড়িয়ে পড়ছে জল
চিঠি লিখে আমায় বল
পোস্টমাস্টার মন উতল
নদীর ঢেউ ছলাৎ ছল
ছ লা ৎ ছ ল ছ লা ৎ ছ ল

3
কোরিনথিয়ান ডিসঅর্ডার!
মেঘ কিনবো এক ফালি
ডাঁটভাঙা ছাতার নিচে
খাওয়াবো খাবো
চু মু!

4
পুরোনো, বেশ পুরোনো একটা
স্বপ্নকে কাঁঠাল পাতা খাইয়ে বাচিয়ে রাখি,
কাঠাল গাছের সংকট দেশজুড়ে। মূল্যবোধেরও।
বণিক সমিতির সমঝোতা সংলাপে তাই
নির্ধারিত হয় গোলাপ ফুলের মূল্য, বাজারমূল্য।

5
তোমার স্বাধীনতা
আছে ব্যস্ততা
আর করপোরেটের
কালো ধোঁয়া
চলে এসি হাওয়া
সাথে অজুহাত
তুমি বাইবাই
অ্যান্ড
টে ক কে য়া র!
________________________
নোট : মোবাইল ফোন থেকে পাঠানো চিরকুট, থেকে যায় কিছু, সেগুলো থেকে এগুলোর জন্ম।