Showing posts with label দিনলিপি. Show all posts
Showing posts with label দিনলিপি. Show all posts

Saturday, July 3, 2010

বহুদিনপরলিপি: পোমো নিরীক্ষা, ন্যানোগল্প আর শব্দচাষ

১.
কলম কি-বোর্ড জাপটে বসে থাকি চুপচাপ। যদি লেখা বেরোয়। অ্যাদ্দিন যা লিখেছি, তা নাকি ফেসবুক স্ট্যাটাস। না লিখতে লিখতে, আরবিতে যাকে বলে, আল-কাতিব কুতালাহ। সাবটাইটেল করলে, রাইটার্স ব্লক। খাঁটি বাংলায়, দোহাই।

এসো তবে ব্লক কাটাই।

ব্যস্ততম দিনশেষে ক্লান্তির কথা বলা একঘেয়ে। একঘেয়েমির কথা বলাও ক্লান্তিকর। ঢং শেষে সঙের কান্না কে দেখতে চায়?

ফলে ৭২০ ডিগ্রি পাক খেয়ে আমাদের ক্লান্ত সিনেমা ঘুমিয়ে পড়ে ক্যানের ভেতর, সেলুলয়েড ফিতার কুণ্ডলি পাকিয়ে। সিনে ফেস্টিভ্যাল থেকে সাড়া নেই। মরণোত্তর জীবনে যদি ডাক টাক পাই। তাই ঐশ্বরিয়া রাই কুড়ায়, আর আমি বেল।

ছাদে ছাদে বাঁধা আর্জেটিনা জার্মানি ব্রাজিল ইংল্যান্ড। কোরবানির গরুর মতো। বাতাস এলে  উত্তেজনায় উড়তে হয় তাদের। দৃশ্যত। একে বলে প্রফেশনালিজম।

আর মানুষ নিকটে গেলে প্রকৃত ব্যাঙ ডুব দেয়। এর নাম অভিজ্ঞতা।



২.
ঘরজুড়ে অনেক ভেড়া। সম্ভবত আপনি একটা সস্তা ন্যানোগল্পে ঢুকে পড়েছেন। ভেড়াগুলো ডিগবাজি খাচ্ছিল। শেষে লজ্জার মাথা খেয়ে নেতা ভেড়াটা বললো, চটপট গুনে ফেলুন তো আমাদের। আমি তখন ঘুমে। সবাই চিৎকার : কী হলো, অনেক তাড়া আমাদের, জলদিইইই। ঘুম গাঢ় হয় আমার।

আগের গল্প থেকে বেরিয়ে গেলেন।

আরেকটায় লগইন করুন : নিজ কবিতা ছাপতে হলো জীবনানন্দ দাশ নামে। ব্র্যান্ডের কী জাদু, মাথা নাড়ে সে। বাংলাবাজার জনজটে হারিয়ে যায়, স্বনামেই।

তিন : চুল ছিড়ে খাবারে ঢুকাই। তর্ক জুড়ি ওয়েটারের সঙ্গে, এটা কী? নতুন প্লেট আনতে বলে ম্যানেজার। মুচকি হেসে মাথার উপর ক্লোজড-সার্কিট ক্যামেরাটা দেখায়।

চার : আই লাভ ইউ জান। বলেই মেয়েটা কাঁদতে থাকে। কোলে কুকরছানাটা। নিথর।

পাঁচ : মন্তব্যের প্রতীক্ষায় ক্লান্ত ব্লগার ভাবে, ছেড়েই দেবে লেখালেখি। সেদিনই প্রথম মন্তব্য আসে। ভীষণ খুশি হয় সে। হোক না স্প্যাম।

ছয় : মেয়েটা ব্যস্ত হয় কৃষিকাজে; ফেসবুকে। ছেলেটা এটা-সেটা ব্রাউজ। তারপর টুপ করে অফলাইন। মেয়েটা টের পায় না।

৩.
নাহ, ঠিক জমছে না গাঁথুনি।
আরও অপ্রত্যাশিত মোচড় প্রত্যাশিত।

মোচড় ঢোকালে ন্যানোগল্প হয় মানুষ। মেধাবীরা টেমপ্লেট। নিজের পেটের ন্যানো তো, তাই আদর করে ডাকি : অ্যান্টিগল্প। মেটাফিকশন। গিমিকাব্য। শব্দনিরীক্ষা।
  • গুগলক্ষী ল্যাপটপ্পা জোরেহেইয়ো
  • সনিভাইয়ো ফেইসবইক্কা সিনেমাম্মা গানগাইয়া মুম্বাইয়া জাদুঝাপ্পি শিরোপাপ্পি
  • ফাংকি ডিজুস ভাষা।
  • কয়েক জনম আগেই আমরা ব্যাকটি বর্গাচাষা।
  • শিরোনামহীন ল্যাজে পাড়া। বন্ধু নাই মুখোশ ছাড়া।
    আজ যে বন্ধু কাল সে মুখোশ। মুখোশ, সেও বন্ধুহীন।
এই যে মুখোশবান্ধব বাস্তবতা, অন্ধ হয়ে স্ব-অর্থ মোহে ছোটা, এর সবকিছু কি স্ব-ইচ্ছায় না? দর্শনের গোল!

তাই ওয়াইন বোতলে ভরে মিনারেল খাই। ওয়াইন, পেলে খাই। ম্যারাডোনা খাই। মেসি কাকা ওয়াকা-ওয়াকা ইউটিউব ফেসবুক বেয়ে যা যা আসে, তার সবই খাই। অন্যকেও খাওয়াই।

পর্নভরা পেনড্রাইভ। শেয়ারমাজারে শিন্নি। ফোনসঙ্গমে গর্ভবান।
জলন্ত জলবায়ু। জুম্মাবার হাতমারা। অপেক্ষারত গডো।
অ্যাকুস্টিক হৃদয়। বৈতালিক আসর। তাত্ত্বিক কুমির।
আততায়ী তেলাপোকা। চলন্ত সিলিংপাখাগামী।
লালসবুজ অন্তর্বাস। অ্যাজাক্স জাতীয়তাবাদ।
বাঙালপনায় বলক। দেশপ্রেম ২.০ বেটা।
যন্ত্রবাহিত যৌনরোগ। রাতভর দিনযাপন।
বগল-ভরা আঁধার। বৈদ্যুতিন অবতার।
নিউ মিডিয়া = গুগল = ব্যক্তিগত ঈশ্বর।

সমীকরণ-শব্দসঙ্গমের ঘোর কাটলে ঢপ  লাগে।
নিয়ম করে ভুলে যাই। নতুন দৃশ্যকল্পে মাতি।
টুইটারে খই ফোটাই।

অসংলগ্নতায় মগ্ন। বক্তব্যহীন জীবন। আসলে ফাঁদ।

৪.
মোট কথা, মনের মোষ তাড়িয়ে যতটুকু এপলিটিকাল হওয়া যায়, যাবতীয় অ্যাক্টিভিজম থেকে যত দ্রুত বিচ্ছিন্ন হওয়া যায়। বাকি থাকলো, নিজের মতো করে কিছু ওপেনসোর্স রবীন্দ্রসংগীত লিখে ফেলা। তবে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে লেখার আগে ক্রসচেক করে নিন।

যেমন, এক ঝরোঝরোমুখরবাদলদিনে রবিঠাকুরকে এসএমএস করি। মামা, আপনি ফেসবুক নিয়ে গান লিখেছেন কোনো? রিপ্লাই পাই: বেতাসির, খাড়া, ছায়ানটে তোর এন্ট্রি নট।

কত আশা রে, এ আষাঢ়ে।
বিপুল তরঙ্গরে।
ওরে ওরে।
_________________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা কলকাতা মুম্বাই
খসড়া ৫.০ / ১ জানুয়ারি - ৩ জুলাই ২০১০

Monday, August 10, 2009

কবিতা : প্রকৃত সারস মোহে

নগরের বেষ্টন কৃত্রিম
জানি তবু মায়াজাল
বুনে থাকি নগরেই

প্রকৃত সারস মোহে
ঢাকা ছেড়ে রাতভর
বর্ষায় টেকনাফ যমুনা

যাপিত প্রকৃত প্রেম
কাছে এলে কামাতুর
কৃত্রিম খাদমেশা আলেয়া

সব ফেলে স্মৃতিসহ
ডুবে যাই প্রকৃতই
মানুষের কৃত্রিম বেষ্টনে

সব ফেলে
__________________________________
খসড়া ৪.০ / ইশতিয়াক জিকো / ১০ আগস্ট ২০০৯ / ঢাকা

Saturday, August 8, 2009

দিনলিপি : অনুতাপ

মাথা বিগড়ে গেলে
এসএমএস পাঠাই
যাচ্ছেতাই

মর্ত্যে ক্ষমা মেলে না

অনুতাপে অস্থিরতায়
যাপিত জীবন

সে কি কেবলই
যা ত না ম য়?
__________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ৮ আগস্ট ২০০৯, ঢাকা

Wednesday, June 10, 2009

শোকলিপি : টুশকির জন্য ভালোবাসা

নিতান্ত তুচ্ছ আর ব্যক্তিগত খবর। টুশকি গতকাল নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে চিরমুক্তি পেয়েছে। আমার সবচেয়ে আদরের সঙ্গী।

ছাদে টয়লেট সেরে প্রতি ভোরে সে ঘরে ফেরে। গতকাল ফেরেনি। কেউ নির্মমভাবে পিটিয়ে ফেলে রেখে গেছে তার নিষ্প্রাণ দেহ। বাসার সামনে।

খবরটা প্রথম দেয় উপরতলার ছোট্ট বন্ধু অরুণ।

টুশকি, আমার কাছে, আর দশটা বিড়াল নয়। আমাদের এ অনন্য সম্পর্ক দীর্ঘ সময়ে বোনা; অনেক গভীরে। প্রিয় মানুষকেও যা বলতে পারিনি, টুশকিকে তা বলেছি। মানুষের সাথে সম্পর্কের নানা পরতে আমার ব্যর্থতাবোধ আর গোপন অপরাধবোধের কথা -- সব সে মন দিয়ে শুনত। অব্যক্ত যোগাযোগে কত ভাববিনিময় হতো আমাদের। এভাবে অজান্তে সে আমাকে পোষ মানিয়ে নিয়েছে।

টুশকির নিথর দেহটা মনে করলেই থেকে থেকে কান্না আসছে। আর দুই মাস পর তার পাঁচ বছর হতো। মানুষের ক্যালেন্ডারে হিসেব করলে, ৩৬ বছর।

শোক কাটাতে সাময়িক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা, নিঃসঙ্গতা বেছে নিয়েছি।

প্রিয়জনের স্মৃতি নাকি ভোলা যায় না। কিন্তু আমি ভোগী মানুষ; ব্যস্ততায় মোহে ঠিক ভুলে যাবো প্রিয় টুশকিকে। শুধু একবার ডুব দিতে চাই গ্রিক পুরাণের সেই বিস্মরণের নদীতে। একবার।

টুশকি, মানুষকে তুমি ক্ষমা কোরো।

- ইশতিয়াক জিকো / ১০ জুন ২০০৯, ঢাকা
_______________________________
প্রাসঙ্গিক ফুটনোট

Friday, January 16, 2009

শুক্রবারের সন্ধ্যালিপি : বিড়াল, অতুল, বাবা, প্রেস্তো

শুনতে পাচ্ছি আমার মা আপন মনে বকবক করে যাচ্ছে জন্মনিয়ন্ত্রণজ্ঞানশূন্য সাড়ে চার বছর বয়সী বিড়ালের সাথে যে সম্প্রতি তিনটি বাচ্চা জন্ম দিয়েও সান্ধ্যকালীন বিস্কিট খাওয়ার লোভে নির্বিকার ভঙ্গিতে ম্যাও ম্যাও কর তার পায়ের কাছে।

ম্যাও ম্যাও ছাপিয়ে হেডফোনে শুনতে পাচ্ছি, আজ আমার শূন্য ঘরে আসিল সুন্দর, ওগো অনেক দিন পর; বহুবার শোনা অতুলপ্রসাদ সেনের গান। এ গান তাঁর মামাতো বোন হেমকুসুমকে লেখা, যাকে বিয়ে করেছিলেন, যদিও থাকতেন আলাদা বাড়িতে, একই শহরে; দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনে কালেভদ্রে একসাথে থাকার সময় হয়তো লেখা এ গান। ইত্যাদি।

দেখতে পাচ্ছি, অন্যমনস্ক বাবা আমার, যার সাথে আমার কথা হয় না দীর্ঘদিন, বাথরুম থেকে বেরুবার সময় যথারীতি বাতি নেভায়নি, হয়তো এখন টিভি অন করে ভলিউম বাড়িয়ে সোফায় শুয়ে কোনো বই পড়তে পড়তে তন্দ্রাচ্ছন্ন হবে।

রুশ বান্ধবী লিলিয়ার অনুরোধে টরেন্ট দিয়ে ঢিমেতালে ডাউনলোড হচ্ছে দ্য রিটার্ন সিনেমা। তার প্রিয় এই সিনেমা ভেনিস উৎসবে শ্রেষ্ঠ ছবির পুরস্কার পায় ২০০৩-এ। লিলিয়া আচ্ছন্ন সোভিয়েত সময় নিয়ে, এখনকার রাশিয়ার কিছুই ভালো লাগে না তার; না সিনেমা, না বোলোগনা পদ্ধতির পড়াশোনা। তার ভালো লাগে দস্তয়ভস্কি, সার্ত্রে, কামুর লেখা যদিও তার ডিপ্লোমার বিষয় ব্যাংক ঋণের ধরন-প্রকরণ। ইদানীং বেশি শুনছে হাবিব ওয়াহিদের বাংলা গান "ভালো বাসবো বাসবো রে বন্ধু"।

আর আমার পছন্দ রাশিয়ার ত্রেপাক নাচের সাথে বাজানো প্রেস্তো লয়ের অর্কেস্ট্রা সঙ্গীত। যেমন পছন্দ আমার সবচেয়ে প্রিয় সাড়ে চার বছর বয়সী বিড়ালটি, যে নিষ্ঠার সাথে উদাসীন ভঙ্গিতে ম্যাও ম্যাও করে যাচ্ছে দুটি টিপ বিস্কিট খেয়েও।

_________________________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৬ জানুয়ারি ২০০৯, ঢাকা

Monday, January 12, 2009

চিরকুট: কেমন আছো?

কেমন আছো তোমরা, আপনারা?

চলে আসছে জানুয়ারি ১৯। আবারও শুটিং শুরু। ব্যস্ততায় ডুবে যাওয়া আবার। শুটিং বিরতিতে ঢাকায় ভালো সময় কাটলো।

স্মৃতিকাতর পৌষ শেষে মনে পড়ছে তোমাদের। আমার হারিয়ে ফেলা সহকর্মীদের, প্রাক্তন প্রেমিকাদের, আগাম বন্ধুদের। যেন ইচ্ছা করেই হারিয়ে ফেলেছি তোমাদের, আপনাদের।

বিপ্লবী ঝাঁঝালো কথা আর কাজ করে না মাথায়।

আর এও সত্যি, যূথচারিতায় উদাসীন আমার মন। দৃশ্যমান স্বার্থের বাইরে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখিনি। তবু দৃশ্যাবলী ছাপিয়ে মনে পড়ছে তোমাদের।

নিশ্চয়ই সবাই ভালো আছো, ছিলে, থাকবে। নয়তো "ভালো থাকা"র সংজ্ঞা পাল্টে নিয়ো। তবু ভালো থেকো।

- ইশতিয়াক জিকো / ১২ জানুয়ারি ২০০৯, ঢাকা
________________________________
নোট: কেমন আছো শিরোনামে একটা গান আছে। সাবিনার কণ্ঠে। কবীর সুমনের কথা আর সুরে। অডিও। ভিডিও।

Friday, August 29, 2008

চিঠি : মুকুটটা তো পড়ে আছে, রাজাই শুধু নেই

কতটুকু লিখলে এই চিরকুট চিঠি হবে?

এখন আমার বেলি ফুলের সুবাস লাগবে। কোথায় পাবো? নেট থেকে ফুলের সুবাস ডাউনলোড করা যায়?

আমার একটা বিড়াল আছে, টুশকি নাম, সংসার পেতেছে ঘরেই, বাক্সের ভেতর। একমাত্র বিড়ালই পারে বাক্সকে পৃথিবী ভাবতে। বিড়াল ভালো লাগে তোমার?

তোমাকে আজ তুমি বললাম। আগামীকালও বলবো। এর বেশি নামবো না। বাইরে কেমন মেঘলা আকাশ। বৃষ্টি নামবে। বৃষ্টি আমার ভালো লাগে, লাগতে লাগতে একসময় বিরক্তি ধরে। সব বিরক্তির শুরুই এইসব ভালো লাগা থেকে।

ভালো লাগলে বাজে বকি খুব। খারাপ লাগলেও। বকলে আবার ভালো লাগে। ভালোলাগা খারাপলাগার হিসেব করেই আমার সময় কাটে। সবারই কাটে।

হেসো না। আমার দমবন্ধ লাগছে। একটু পর ঠিক হয়ে যাবো।

অনুভূতিরা এমন। ওঠে। আবার নামে। সাইন কার্ভ। এত অসংলগ্নতা থাকলে মানুষ মারা যায়। মানুষ মারা গেলে সবাই যদি বেলি ফুল হতো।

(গার্গীকে লেখা ব্যক্তিগত চিঠি। পরিবর্তিত। গার্গী আমার অচেনা বান্ধবী। আর চিঠির শিরোনাম মান্না দের 'আমার ভালোবাসার রাজপ্রাসাদে' থেকে নেয়া।)

______________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৯ আগস্ট ২০০৮, ঢাকা

Monday, June 16, 2008

দিনলিপি : বক্তব্যহীন জীবন

'ঈশ্বরে বিশ্বাস না করো, অন্তত কিছু কুসংস্কারে বিশ্বাস করো'
- গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেজ

শাহবাগ থেকে মাইলাইন বাসে উঠে উপলব্ধি করলাম, আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। চারপাশের সব দেখে যাচ্ছি শুনে যাচ্ছি লিখে যাচ্ছি বকে যাচ্ছি। কিন্তু আমার নিজের বলার কিছু নেই। জীবন নিয়ে গভীর কোনো দৃষ্টিভঙ্গি নেই। স্পষ্ট উচ্চারণ নেই। উপার্জনের আশায় অর্থের বিনিময়ে অনর্থ উৎপাদন করে যাচ্ছি। নির্মাণ করতে গিয়ে আপোষ করে যাচ্ছি দর্শকের তুষ্টির সাথে, প্রযোজকের অর্থের সাথে, সহকর্মীদের ভাবনার সাথে। এই আপোষের ক্ষেত্র আর মাত্রা বাড়ছে। হয়তো আরও বাড়বে। কারণ আমি গভীরভাবে উপলব্ধি করছি, আমার নিজস্ব কোনো বক্তব্য নেই। আমার খারাপ লাগছে।
__________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৬ জুন ২০০৮ / ঢাকা

Tuesday, June 3, 2008

দিনলিপি : ল্যান্ডফোনে উৎপাত

আপনার অ্যাকাউন্টেএএ
পর্যাপ্ত পরিমাণ টাআকা নেই
দয়া করেএএ রিচার্জ করুন

সেই সকাল থেকে মিহি কণ্ঠে এই উৎপাত। টেনে টেনে উচ্চারণ। কোনো মোবাইল ফোন না, এই আকুতি বিটিটিবি ল্যান্ডফোনের। রিসিভার তুললেই এইসব বলছে।

তারপর অবশ্য ফোন করা যায় ঠিকঠাক। কিন্তু আবার রিসিভার তুললেই -

Tuesday, May 27, 2008

সন্ধ্যালিপি : অনুপ্রাসের ঘাড়ে রোঁ

রায়হানের রাজহাঁস।
উচ্চারণ করলেন কামু
ভাই। আমার সামনে। তিনি নাটক
না সিনেমা বানাতে চান
এটা নিয়ে।

রাজহাঁস কেন?
সিগনিফাইয়ার? প্রশ্নটা প্লট
জানতে। যেহেতু গল্প পড়া নাই। আবু
কায়সারের। জানলাম। তিনিও পড়েন নাই।
শুধু শিরোনাম শুনেই
সিনেমার সিদ্ধান্ত।
শিরোনাম
ভালো
লাগার কারণ
অনুপ্রাস। রায়হান। রাজহাঁস।

তাইলে হালিমের হাঁসছানা কিংবা
কামরুজ্জামান কামুর কারখানা হলেও
হতো। রাজহাঁসের গুরুত্ব কী? আমি বলি।

সাথে ভাবি : এইসব অনুপ্রাস
উচ্চারণে উপাখ্যান উন্মোচিত হয়
কিনা আর
নিরীক্ষার নামে
একগাদা এন্টার দিলেই
কবিতার মতো মনে হয় কিনা।

_________________________
- ইশতিয়াক জিকো /২৭ মে ২০০৮, ঢাকা

Saturday, March 29, 2008

রাতলিপি : আমার আর কোথাও যাবার নেই, কিচ্ছু করার নেই

৩১৪.
কেবিনে কেবিনে ঈশ্বর জপ। রাত দেড়টায় একসাথে লোকনাথ আর আল্লা নামে বিলাপ। একটায় ব্লাড ক্যান্সার, অন্যটায় ব্রেইনস্ট্রোক। বিলাপ মুদারায়, পরে তারায় ওঠে। কানে তুলা দিই। আকাশজুড়ে মরা ঈশ্বর, কেবিনজুড়ে নেবুলাইজার অক্সিজেন মুখোশ স্যালাইন রক্ত। ক্যানিউলা লাগানো আমার হাতে, ব্যথার ইনজেকশান দেয়া হয়েছে, শুধু একটু ঘুম দরকার। ঘুম আয়রে, নিয়ন বাতি টিপ দিয়ে যা।

১১৭.
দুর্ভাগ্য যে আমি ছিলাম ভিডিওর দায়িত্বে। টকব্যাকের ব্যবস্থা ছিল না। তাই ইশারায় যোগাযোগ। এক আঙুল ক্লোজআপ, দুই মানে টু-শট আর তিন থ্রি-শট। আমি ইনসার্টে, রতন ভাই মাস্টার শটে। আলো ভীষণ কম। হাজার ওয়াটের হ্যালোজেন ছিল সাথে; জ্বালানোও হয়েছিল, কিন্তু কবীর সুমন বিরক্ত হন আলো জ্বালালে। তাই নিভু আলোতেই চললো আড্ডা, কবিতা, রবিঠাকুর, ডিলান আর যাবতীয় দেশাল খুনসুটি।
_________________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা, ২০০৭-২০০৮

Sunday, October 28, 2007

গিমিপ্রলাপ : টপোলজিক্যাল স্পেসে বাষ্পীভূত শৈশব


৫০% বোনাস প্রলাপ
টপোলজিক্যাল স্পেসে স্মৃতিরা থাকে অবিচ্ছিন্ন, অভিসারী। স্মৃতিরা জমায়েত হয়, তবু আন্দোলনে মাতে না। যেভাবেই জমায়েত হোক, তারা একই স্পেসে থাকে। আর যদি কিছু স্মৃতি জটলা পাকায় অন্য কোথাও, সেখানে অবশ্যই পাবেন একটি ফাঁকা শৈশবস্মৃতি। বিনীতভাবে তাকে বলবেন আমার কথা।

Saturday, October 27, 2007

কিবোর্ডের পুরোনো গল্প কিম্বা পুরোনো কিবোর্ডের গল্প

আপনাকে গল্পটা বলা দরকার। কিবোর্ডের গল্প।

এটা ঠিক গল্প না, কিছু উচ্ছিষ্ট দৃশ্যপরম্পরা, মাথার ভেতর। প্রথম দৃশ্য সাজাতে আমাদের লাগবে একজন চরিত্র, নাম দিলাম তার আজাদ। আর লাগবে একটা পুরোনো কম্পিউটার কিবোর্ড।

ধরা যাক, আজাদের কম্পিউটার কিবোর্ডটা পুরোনো, ময়লা হয়ে গেছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি যন্ত্রটার। চালু কিবোর্ড। দোষ একটাই, পুরোনো, ময়লা এবং ফাংশন কম।

সুতরাং একদিন আসে ঝা-চকচকে মাল্টিমিডিয়া কিবোর্ড। পুরোনো কিবোর্ডের জায়গা হয় স্টোর রুমে। দিন যায়, নতুন কিবোর্ডে মজে যায় আজাদ।

মাসখানেক পর, এক রাতে, হঠাৎ বিগড়ে যায় নতুন কিবোর্ড। এত তাড়াতাড়ি নষ্ট হলো! ধ্যাত! পুরোনোটাই তো ভালো ছিল। স্টোর রুমে পুরোনো কিবোর্ডটা আনতে যায় সে।

আজাদ কিন্তু খুঁজে পায় না কিবোর্ডটা। কাউকে না বলে কখন কোথায় যে দূরে চলে গেছে কিবোর্ডটা, আমরা তা জানি না, জানার দরকার নেই। জানতে চাইলে, গল্পটা যৌক্তিকভাবে শেষ করার জন্য, আপনারা কেউ নিয়ে যেতে পারেন পুরোনো কিবোর্ডটা। পরে সময়মতো জানিয়ে দেবেন পাঠকদের।

যেকোনো সম্পর্কের বেলায় এটা সত্যি। সম্পর্কের আপাত প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আমরা কেউ আজাদ হয়ে যাই। আর কাউকে কাউকে পুরোনো কিবোর্ডের চরিত্রে অভিনয় করতে হয়।

দুঃখিত পাঠিকা, আপনি গল্পটা পড়ে বিষণ্ণ হবেন না। কোনো রূপক হিসেবেও নেবেন না। এটা কিবোর্ড, নিতান্তই কিবোর্ডের গল্প।

আসলে গত দু দিন ধরে আমার নতুন কিবোর্ডের কিছু বোতাম কাজ করছে না, আবার ইদানীং খামাজ গানটা শুনছি, আর তার ভিডিও দেখছি, আর এইসব ভাবছি, আবোলতাবোল। মানুষ আর জড়তেও তো সম্পর্ক হয়। হয় না?

বস্তুত আমার টেবিলে আজ বিনয় মজুমদার, অদূরে ঋত্বিক ঘটকের অযান্ত্রিক ডিভিডি, হেডফোনে খামাজ এবং মনিটর জুড়ে ফেসবুকের কোনো প্রোফাইল।

___________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৭ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Friday, October 26, 2007

যে কারণে তোমাকে আর চিঠি লিখি না

১.
তোমাকে একটা চিঠি লিখবো আজ।

কিন্তু কী লিখবো? খসড়া করা যাক।

প্রথমত, লিখতে পারি, আমাদের দুজনের মিল। সঠিক করে বললে, 'ঋণাত্মক অমিল'। গাণিতিকভাবে সিদ্ধ হলো কথাটা। হলো তো?

দ্বিতীয়ত লিখবো, তাৎক্ষণিক ভাবনা কোনো। ঠিক এই মুহূর্তের ভাবনা, যা আসে মাথায়, খপ করে ধরবো, আর লিখে ফেলবো। বেশি ভাবলেই যুক্তির ছুরির তলে চলে যাবে ভাবনা। কে-কী-কেন-কখন-কোথায়-কিভাবে প্রশ্নগুলো ধর্ষণ করবে সদ্যজাত ভাবনাকে, মাথার ভেতর। আমি, নৈতিকভাবে, তার বিপক্ষে।

তৃতীয়ত, বলে নিই, এইসব প্রথমত-দ্বিতীয়ত ক্রম মেনে চিঠি লিখা যায় না।

চতুর্থত বলে কিছু নেই। আপাতত।

২.
কিন্তু কেন লিখবো তোমাকে?
আবার পড়ো উপরের প্রশ্নটা।

এবার তুমি যদি জোর দাও কেন শব্দে, তার মানে প্রশ্নে আমি জানতে চাইছি তোমাকে লেখার কারণটা।

যদি জোর দাও লিখবো শব্দে, বাক্যের মানে কিন্তু পাল্টে যায়। মানে হলো এখন, তোমাকে ফোনে-ফেসবুকে-ম্যাসেঞ্জারে না বলে কেন লিখবো?

আর যদি জোর দাও তোমাকে শব্দে, তখন অনেক বিকল্প 'তুমি' ঘিরে ধরবে তোমাকে। কেন এ সময়টুক, চিঠিখানি অন্য কোনো 'তোমাকে' নয়? ইত্যাদি।

এভাবে আমার প্রতিটি বাক্যপাঠে তুমি ভুল বুঝতে পারো আমাকে। তবু লিখবো আমি।

কী? জ্ঞান দিচ্ছি বলে রেগে যাচ্ছো?
রেগে গেলে তো হবে না।
যাও, রেগে যাও।

লিখলাম না আর চিঠি।
_______________________
- ইশতিয়াক জিকো / ২৬ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Friday, October 19, 2007

রাতলিপি : আরোপিত অ্যামনেশিয়া

ছোট বারান্দায় আব্বু গ্রিল ধরে কাঁদছে। গ্রিলের ফাঁক দিয়ে নিচে তাকাই। দেখি ষাটোর্ধ এক লোক, উলঙ্গ, বেঁধে রাখা হয়েছে ইলেকট্রিক খাম্বার সাথে। আকাশে গলে বৃষ্টি পড়ছিল তখন।

আমি জানি তার পরের দৃশ্য। আব্বুকেও একইভাবে সেখানে নেয়া হবে। আগের কোনো দৃশ্য মনে আসছে না, ট্রেনে চেপে স্মৃতিরা মিলিয়ে যাচ্ছে অজানা স্টেশনে, এ আমার আরোপিত অ্যামনেশিয়া; ভুলে থাকার ট্যাবলেট গিলে ছাইপাশ দুঃস্বপ্ন দেখা প্রতিরাতে।

আজ যেমন দেখলাম। উঠে দেখি লোডশেডিং। দুঃস্বপ্নরা যেন সম্ভোগ করছিল মোমবাতি জ্বেলে।

অর্থহীন লাগে সব। মাঝে মাঝে।
______________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৯ অক্টোবর ২০০৭, ঢাকা

Sunday, October 14, 2007

দিনলিপি : ঢাকা, ইমারত

সাড়ে দশটায় রা-এর ফোন। কম্পিউটার সমস্যা। আসতে পারবো কিনা। গেলাম। ১৬ তলায় ফ্ল্যাট তাঁর। কনকর্ড রিজেন্সিতে। পান্থপথের স্কয়ার হাসপাতালের বিপরীতে।

১৬ তলার বারান্দা থেকে ঢাকার ভিন্ন রূপ। ঢাকা যেন প্রসব করছে একগাদা ইমারত। অপরিকল্পিত। নির্মিত-নির্মীয়মান দালানকোঠার স্তুপ। কনক্রিট বস্তি। গিজগিজ করছে সব। তাকিয়ে ছিলাম অনেকক্ষণ, বাতাস বইছিল, ধানমণ্ডি লেক, রায়েরবাজার বধ্যভূমি বা কামরাঙ্গির চর, ওই তো দেখা যাচ্ছে।

গত রাতে মনমরা ছিলাম একটু। মাথার ভেতর বিচ্ছিন্ন শব্দদের নিঃসঙ্গ ভ্রমণ। কিডনি সত্যতা রিপ্লেসমেন্ট ভোতা অনুভূতি বিষয়ীগত বিশ্বাস ব্যস্ততা মাপাহাসি গতরাত বহমান জীবনদর্শন চাপাকান্না তবুওজীবনযাচ্ছেকেটেজীবনেরনিয়মে।

আজ সারাদিন সেসব কিচ্ছু মনে হয়নি। মন ভালো ছিল বেশ। ১৬ তলার ওপর থেকে দেখা ঢাকা শহর গেঁথে আছে দুপুর থেকে। আবার যেতে চাই ১৬ তলার সে বারান্দায়, রেলিং ঘেষে ঢাকা দেখবো।

আমি রা-এর ফোনের অপেক্ষায় থাকি।
_______________________________
- ইশতিয়াক জিকো / ১৪ মার্চ ২০০৭, ঢাকা

Thursday, August 23, 2007

কারফিউ লিপি ১: সাংবাদিক প্রহার এবং অন্যান্য

১.
কারফিউ শুরু হয়েছে রাত আটটা থেকে। এখন রাত পোনে বারো। ২২ আগস্ট ২০০৭।

বিডিনিউজের খবর, এর মাঝে ১২ জন সাংবাদিক আটক, সেনা সদস্যের হাতে। পেশাগত পরিচয়পত্র দেখিয়েও রেহাই পাননি তাঁরা। লাঠি, হকিস্টিক ও বন্দুকের বাঁট দিয়ে আঘাত করেছে বিডিনিউজ-এর সাংবাদিকদের। অথচ সরকারি প্রেস নোটে বলা হয়েছে, কারফিউ পাস হিসেবে নিজের পরিচয়পত্র ব্যবহার করা যাবে।

আটক সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজের লিটন হায়দার, বিপ্লব রহমান, আসিফ আহমেদ রম্য, বৈশাখী টিভির আনিস আলমগীর, দৈনিক সমকালের আবদুল মজিদ, নিউ এজ-এর সানাউল হকসহ সিএসবি নিউজ-এর তিন জন সাংবাদিক। মুক্তি চাই আটক সাংবাদিকদের। এক্ষুণি। (আপডেট /২৩ আগস্ট রাত ১টা : মুক্তি দেয়া হয়েছে তাঁদের।)

সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক কার্যকলাপে তীব্র ঘৃণা, নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

প্রাসঙ্গিক ব্লগপোস্ট :
- আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় বাংলাদেশের কারফিউ - দেশী ভয়েস
- ব্লগার বিপ্লব রহমানের মুক্তি চাই - শোহেইল মতাহির চৌধুরী
- সাংবাদিক আটক কি ব্যারিস্টার মইনুলের ক্ষমতা প্রয়োগের দৃষ্টান্ত? - তানভীর আহমেদ

২.
২৩ আগস্ট ২০০৭, রাত ২টা। মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক এখনও বন্ধ। সরকারি নির্দেশ ছিল, ২২ আগস্ট সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত সাড়ে আটটা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে। আবার শুনছি, নির্ভরযোগ্য সূত্র নয় যদিও, ইন্টারনেট সংযোগও কিছুক্ষণ পর বিচ্ছিন্ন করা হবে।

৩.
কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা। সাথে সব আবাসিক হল-হোস্টেল খালি করার নির্দেশ, রাত আটটার ভেতর। নির্দেশ এসেছে মাত্র ঘণ্টাকয়েক আগে। রাত আটটার পর খবরে শোনা গেল, মেয়েরা হলে থাকতে পারবে রাতটুকু। অথচ সে কথা আগে প্রচার করা হয়নি।

৪.
ব্লগার অয়ন জানিয়েছেন, সেনাক্যাম্প সরিয়ে নেয়ার পর আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকেছে সেনাবাহিনী। টহল দিচ্ছে তারা, জিপগাড়িতে চড়ে। সাংবাদিক হাসান শরিফ খবর শুনেছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আটকে পড়া ছাত্রদের নাকি সেনা সদস্যরা মারধর করে নিয়ে গেছে।

বন্ধু জাকিরের সাথে শেষ কথা হয়েছে সাড়ে পাঁচটায়। চিন্তা হচ্ছে হলের বাকি বন্ধুদের জন্য। যোগাযোগের উপায় নেই। হাসান শরিফও তাই ভাবছেন।

জানি না আর কী অপেক্ষা করছে!

Monday, August 6, 2007

দেখা সিনেমা : স্বপ্নডানায়

১.
'স্বপ্নডানায়' সিনেমা দেখলাম গতকাল। উদ্বোধনী প্রদর্শনী ছিল, স্টার সিনেপ্লেক্সে।

প্রযোজনায় ইমপ্রেস টেলিফিল্ম, এফডিসির বিকল্প আইকন এখন; ড্রইংরুমের টিভি দর্শককে বড়পর্দার ভোক্তা করতে প্রতিষ্ঠানটি বিড়ালপ্রসবের মতো সিনেমা উৎপাদনে মত্ত। নিবেদনে বাংলালিংক কোম্পানি, যার সম্ভাব্য গ্রাহক হয়তো 'সুস্থধারার ছবি'-এর দর্শকদের ভেতর থেকেই মিলবে বলে বিশ্বাস।

পরিচালক গোলাম রাব্বানী বিপ্লব, পরিচালনায় নতুন মুখ, তবে 'দেশী সিনেমার রাজনীতি'তে চেনামুখ, বাংলাদেশ সিনেমা উৎসবের আয়োজক হিসেবেও পরিচিত। গেল জুনে দশম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের এশিয়া নিউ ট্যালেন্ট ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পেয়েছেন তিনি, শ্রেষ্ঠ পরিচালকের।

বিদেশী চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার যোগ, দেশী মিডিয়ার কাঠগড়ায় 'সুস্থ ধারার' সনদ, সমালোচকদের কয়েক কলাম বন্দনা আর স্টার সিনেপ্লেক্সের মতো অভিজাত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি-- সব মিলে একটা ইমেজ ও আমেজ তৈরি করার চেষ্টা প্রচারণায়, পরিবেশনায়। ভালো সিনেমার ইমেজ। ভালো।

বাংলাদেশের সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি যখন সংকটে, টিভি-পত্রিকাগুলো তখন 'ছিঃনেমা অসুস্থ অশ্লীল অরুচিকর' বলে গালি দেয়। তারপর নিজেরা দায়িত্ব নেয় দর্শকদের রুচি তৈরি করার, সিনেমার ভালোত্বের বিচার করার। 'আর্ট ফিল্ম, বিকল্প ধারা, অবাণিজ্যিক ধারা' শব্দগুলো সেকেলে, দর্শক খায় না আর, বিকল্পধারাআন্দোলন করে ফেনা তুলেছে ফিল্ম সোসাইটির লোকে, তারও নমুনা দেখেছে দর্শক, এবং দেখে ক্লান্ত। তাই মোড়ক বদল। নতুন ট্যাগ। 'সুস্থ ধারা, রুচিসম্মত সিনেমা'।

সিনেমার স্বাস্থ্য নিয়ে উৎকণ্ঠিত মিডিয়ার কাছে প্রশ্ন, কী কী উপাদান (না) থাকলে সিনেমাকে সুস্থ এবং ভালো বলেন আপনারা?

'স্বপ্নডানায়' সিনেমা কেন ভালো?

সিনেমাটা কী নিয়ে?

গ্রামের এক ক্যানভাসার ঘটনাক্রমে কিছু বিদেশী নোট পায়। এই নোটের দেশী মূল্যমান কত হবে, চিন্তায় পড়ে সে, স্বপ্ন দেখে তার পরিবার। টাকার মালিক হবার স্বপ্নে তার জীবনযাত্রা বদলে যায়, কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়। পরে জানতে পারে, নোটগুলো অচল। স্বপ্ন ভেঙে যায়। উপলব্ধি করে, এই সামান্য কয়টা কাগজের নোট যত নষ্টের মূল। তারপর আবার আগের জীবনে ফিরে যায়। পরিচালক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বাংলাদেশের খেটে খাওয়া মানুষরাও কীভাবে অল্পতে সন্তুষ্ট হতে পারে, সে দৃশ্য ছবির উপজীব্য হয়েছে।

টাকার পেছনে না ছুটে অল্পতে সন্তুষ্ট হও, সেটাই ভালো, সেখানেই সুখ-- গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এই দর্শন কেন বেছে নিলেন লেখক-পরিচালক, প্রযোজক আর নিবেদক?

ব্যস, আর বিশ্লেষণ কোরো না।
এত বুঝে কাজ নেই।
পুপু পুপু পু।

২.
তাহলে সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখার বয়ান দিই।

সিনেমার মূল চরিত্র একজন ক্যানভাসার, অভিনয়ে মাহমুদুজ্জামান বাবু, মলম বেচে, নওগাঁ জেলার গ্রামের হাটে হাটে। দশ বছরের ছেলে রতন গান গেয়ে সাহায্য করে বাবাকে। একদিন, বাড়ি ফেরার সময়, ছেলের জন্য একটা পুরনো প্যান্ট কেনে বাবু। সেই প্যান্ট ধোয়ার সময় পকেটে কিছু বিদেশী নোট পায় ক্যানভাসারের বউ, রোকেয়া প্রাচী। ততক্ষণে সিনেমার বারো মিনিট পার। পর্দায় দেখি, রাতের দৃশ্য, ইনডোর শট, বাবু তোষকের নিচে লুকিয়ে রাখে নোটগুলো।

কোন দেশের নোট এগুলো, দেশী টাকায় এর মূল্য কত, এত টাকা পেলে কী করবে, একে ঘিরে শুরু হয় স্বপ্ন। স্বপ্ন মানে, টেকনিক্যালি বললে, মোশন স্লো করে দৃশ্য ঢোকানো, সিনেমাভাষার ক্লিশে কায়দা। যেমন রোকেয়া প্রাচীর স্বপ্ন, তাদের প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে। খুঁড়িয়ে নয়, দৌড়ে আসছে তার কাছে, ধীরগতিতে। প্রাচী আরও দেখেন, স্বপ্নদৃশ্য, বিয়ের সাজে বসা তার আরেক মেয়ে, গোবর লেপছিল মূলত মেয়েটি। এই সিকোয়েন্সের শুটিং মনে পড়ে, অ্যারিফ্লেক্স ক্যামেরা তাক করে আছেন সিনেমাটোগ্রাফার মাহফুজ-উর রহমান, ছবি তুলছিলাম একটু দূরে দাঁড়িয়ে, সিনেমার ওয়ার্কিং স্টিল, বেশ গরম ছিল গত বছর জুনে, প্যাচ শুটিংয়ে।

ক্যানভাসার তার ছেলেবেলার বন্ধু মেম্বারকে, অভিনয়ে ফজলুর রহমান, জানায় নোটের কথা। বন্ধু রাজি হয়, তবে টাকা পেলে ভাগ দিতে হবে, এই শর্তে। গ্রামের ব্যাংকে বিদেশী নোট লেনদেন হয় না। তাই ক্যানভাসারকে নিয়ে মেম্বার যায় দুলাভাইয়ের কাছে, ঢাকায় যাতায়াত আছে যার। নোটের একটা ফটোকপি নিয়ে দুলাভাই যায় ঢাকা, গিয়ে খবর পাঠায়, দেশি টাকায় এর দাম নাকি অনেক। ততক্ষণে স্যান্ডউইচ, কফি পৌছে গেছে দর্শকদের মাঝে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক বদান্যতা! কফি খাও আর স্বপ্নডানায় দেখো। সিনেপ্লেক্সে প্রিমিয়ার শো বলে কথা।

অন্যদিকে, সাবপ্লট শুনুন, মেম্বার বন্ধুর বাড়িতে এক বউ, এক শালী। মেম্বার তার বউকে নোটের কথা জানায়। শালী শোনে তা আড়ালে। তারপর ক্যানভাসার বাবু এলেই কপিলাসুলভ হাসি দেয়। বাবু সিনেমা দেখতে নিয়ে যায় বন্ধুর শালীকে। স্বপ্ন দ্যাখে সে, বিয়ে করে নিয়ে যাচ্ছে বন্ধুর শালীকে। পাশের সিটে বসা দর্শক মজা পায়, খিখিখিখি শব্দ করে, সেটা হাসি, আমার অনুমান।

গ্রামে গুজব ছড়ায়। বউ আঁচ করে। চার্জ করে ক্যানভাসার বাবুকে। বাবু রেগে যায়, বউয়ের চুল ধরে, মাটিতে ফেলে দেয়, পা দিয়ে ঠেসে ধরে গলায়। ইচ্ছে করে একটু ডিটেইলে বললাম লাইনটা।

ফ্রেমের বাইরে থেকে প্রতিবেশী দৌড়ে আসে, সে যাত্রায় বেঁচে যায় বউ। তবে বউ, সিনেমার স্ক্রিপ্ট অনুযায়ী, পরদিন গোপনে নোটগুলো চুলার আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে নেয়, কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগে। কাট। নোটগুলো আগুনে পোড়ায় কিনা, জানা হয় না। সিনেমার হুক।

অধৈর্য হবেন না। প্রায় শেষদিকে। বন্ধু আর ক্যানভাসার বাবু যায় নওগাঁ শহরে, ব্যাংকে নোটের ফটোকপি দেখায়। ব্যাংক থেকে জানতে পারে, এই নোট এখন অচল।

বন্ধুর মেজাজ খারাপ হয়, মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যায়, ক্যানভাসারকে মাঝপথে রেখে।

ক্যানভাসার বাবু বাড়ি ফিরে বউকে শুধায় নোটের কথা। বউ খাম থেকে নোট বের করে, হুক খোলস ছাড়ায়, দর্শক দেখে, টুকরো টুকরো করে ছেড়া। ছেড়ার কারণ, বউ বলে, এত টাকার দরকার নাই। ক্যানভাসারও কাঁদতে কাঁদতে সায় দেয়, ঠিক, এত টাকার দরকার নাই। তারপর জড়িয়ে ধরে তারা কাঁদে, সিনেপ্লেক্সের বোদ্ধা দর্শকদের সামনে। তারপর ছেলেমেয়েরা ফ্রেমে ঢোকে। গান শুরু হয় আবহে। মানসী সাধুর গলায়, সেটা প্রমিত উচ্চারণে, 'জানি একদিন ভোর হবে...' ওহ নো, আবার আশাবাদী গান।

লং শট। ক্যামেরাকে পেছনে ফেলে ক্যানভাসার তার ছেলেকে নিয়ে কাজে বেরিয়ে যায়।
অভিজ্ঞ দর্শক বুঝে ফেলে, সিনেমা শেষের পথে, উঠতে থাকে দুয়েকজন।
আবহে গান চলছে। দূরে মিলিয়ে যাচ্ছে তারা।
এবং শেষ। টাইটেল ওঠে কালো ফ্রেমে।

৩.
সংলাপে নওগাঁর আঞ্চলিক টান আনতে পারেনি চরিত্রগুলো। বাড়তি সিকোয়েন্স আছে অনেক জায়গায়, সিনেমার মেদ, গল্প এগিয়ে নেয় না, সম্পাদনায় বাদ দেয়া যেতো। ক্যামেরার কাজ ভালো লাগেনি। যেমন, শটের মাঝে প্যান বা জুম করা, এ স্টাইল অপছন্দ আমার, দ্বিমাত্রিক-ফ্ল্যাট লাগে, তার চেয়ে ভালো স্ট্যাটিক শট। আবার ঘন ঘন ক্রেন ও ট্রলির ব্যবহার অহেতুক ঠেকে, ছিল-তাই-ব্যবহার-করা গোছের। তার দায় সিনেমাটোগ্রাফারের উপর বর্তায় না, পরিচালক এমনভাবে শট বিভাজন করেছেন বলেই তো। ধীরে নেয়া ক্রেন শটে ফ্রেম নড়ে-দোলে, জার্ক করা যাকে বলে। কিছু শটে শার্পনেস কম এবং আউট অব ফোকাস। রঙের টোন মেলেনি কয়েক জায়গায়। একটা দৃশ্যে হলুদ আভা, ম্যাচ কাটে শট বদল, আর হয়ে গেল নীলচে! কারিগরি দুর্বলতা ছাড়া এর আর কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাইনি। মেম্বার বন্ধু তাকে ছেড়ে চলে গেলে, ঘাসের দিকে তাকায় ক্যানভাসার বাবু। ঘাস ফুড়ে আবছা ভেসে ওঠে বউমারার দৃশ্য। কল্পনাদৃশ্য বোঝাতে সুপারইমপোজ কায়দার বিকল্প ছিল না?

৪.
উদ্বোধনী প্রদর্শনী হলে অনেকের সাথে দেখা হয়। এবারও হলো। সম্পাদক জুনায়েদ হালিম লম্বা চুল রেখেছেন। শাহীন দিল-রিয়াজকে পেলাম। জার্মানি থেকে ঢাকা এসেছেন দিন দশেক আগে। থাকবেন সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। তার নতুন ডকুমেন্টারি লোহাখোর নিয়ে আলাপ হলো। বললেন, এশিয়ার কিছু উৎসবে জমা পড়েছে। সেখানে শেষ হলে ঢাকায় দেখাবেন। আগামী বছরের আগে না। পরের সিনেমাটা ফিকশনধর্মী করার ইচ্ছা।

আসছে শুক্রবার কয়েকটা হলে মুক্তি পাবে সিনেমাটি। ইংরেজি শিরোনাম রাখা হয়েছে: On the Wings of Dreams.

সপ্তাহজুড়ে পত্রিকার বিনোদন পাতাগুলো এ সিনেমা নিয়ে নিশ্চয়ই আরও রসিয়ে লিখবে। আর সুস্থধারা, সুস্থধারা করে মাতম তুলবে।

যত্তোসব!

-- ইশতিয়াক জিকো / ঢাকা / ৬ আগস্ট ২০০৭

Saturday, August 4, 2007

দেখা নাটক : একশ' বস্তা চাল

গেল মাসের শেষ রাত কেটেছে শিল্পকলার নাট্যশালায়, জাপানি নাটক একশ' বস্তা চাল দেখে। বাড়ি ফিরেছি ঝুমবৃষ্টিতে। ফিরেই রুটিনমাফিক লোডশেডিং উপভোগ আর যাবতীয় প্রথাযাপন।

একশ' বস্তা চাল একটি চমৎকার বাজে নাটক। পাণ্ডুলিপি ইউজো ইয়ামামতো'র। নির্দেশনায় গোলাম সারোয়ার, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উপপরিচালক তিনি। প্রযোজনায় শিল্পকলা একাডেমী নিজেই। আর প্ররোচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন। জাপান দূতাবাস প্রযোজনা সহযোগী ছিল।

এ নাটক মঞ্চায়নের আরেক উদ্দেশ্য, সরকারি মেসেজ দেয়া। বাজে মনে হবার অন্যতম কারণ এটি। অবশ্য সরকার নাটকের মাধ্যমে জনগণকে মেসেজ দিতেই পারে, যেহেতু ধরে ধরে সবাইকে আফিম খাওয়ানো কষ্টসাধ্য।

নাটকের পটভূমি ১৮৭০ সালের। মেইজি সময়কার। কাহিনী এমন : নাগাওকা অঞ্চলের মানুষ খেতে পারছে না, আর্থিক অনটন খুব। পাশের অঞ্চল থেকে একশ' বস্তা চাল আসে, বিলি করার জন্য। কিন্তু নাগাওকার প্রধান উপদেষ্টা চাল বিলি না করার সিদ্ধান্ত নেন। এই চাল বেচে একটা স্কুল ঘর বানাতে চান। এমনিতেই ক্ষুধা, তার ওপর এমন সিদ্ধান্ত, ক্ষেপে যায় সামুরাই যোদ্ধারা। কাতানা (সামুরাই তলোয়ার) নিয়ে ঘেরাও করে প্রধান উপদেষ্টার বাড়ি, পারে তো তখনই ঘ্যাচাং।

শেষ অঙ্কে উপদেষ্টা বোঝান পাবলিকসম সামুরাইদের: চাল বিলি করলে তা দু দিনেই ফুরিয়ে যাবে, আর চাল বেচার টাকা স্কুলের পেছনে খরচ করলে শিক্ষিত হবে জনগণ, তখন একশ' কেন, হাজার বস্তা চাল উৎপাদন করা যাবে।

সামনের সারির দর্শকরা অন্ধকারে বসে হাততালি দেন।

এদিকে, মঞ্চে উপস্থিত সামুরাই যোদ্ধারা গাঁইগুঁই করে, যুক্তিতর্কে পারে না, শেষে জাপানি স্টাইলে গুরুবাদিতার জয় হয়, শ্রদ্ধায় তারা হাঁটু গেড়ে বসে, মাথা নত করে উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত ও দূরদর্শিতার কাছে।

নাটকের আলোক নির্দেশনায় ছিলেন ঠাণ্ডু রায়হান। মঞ্চের কোণে তিনি উজ্জ্বল আলো ফেলেন। আর উপদেষ্টা সেখানটায় গিয়ে আশার বাণী কপচান, ওরে দ্যাখ, ওই তো আলো, নতুন সূর্য, সুন্দর আগামী অপেক্ষা করছে। আবহ সঙ্গীতের লয় বাড়তে থাকে।

নাটক শেষ হয়।
ভাবনা শুরু হয়।

ভাবনার প্রথম স্তর নাটকের পরিণতি নিয়ে, যেখানে হাইলাইট হয় প্রধান উপদেষ্টার সিদ্ধান্ত, সাময়িক সমাধানে না গিয়ে স্থায়ী সমাধানের পথের ব্যবস্থা করা। অথবা ভিন্নপাঠে: ভবিষ্যতে সুখের জন্য বর্তমানের কষ্টকে সহ্য করে যাওয়াই সঠিক সিদ্ধান্ত।

কিন্তু একশ' বস্তা চাল বেচে স্কুলের ভৌত অবকাঠামো তৈরি আর সেখান থেকে শিক্ষিত-স্বাবলম্বী হয়ে দারিদ্র্যমোচন করার যে স্বপ্ন-- এ দু'য়ের মাঝে অসংখ্য ধাপ ও নিয়ামক আড়ালে থেকে যায়, উপদেষ্টার 'রোডম্যাপ' পরিস্কার হয় না। স্বপ্নটা বরং সরকারি-সরকারি মনে হয়।

মঞ্চে সামুরাইরা মেনে নেয়। কিন্তু ২০০৭ এর বাংলাদেশে বসে আমার খটকা দূর হয় না, কেমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়।

উদ্দেশ্যপ্রণোদিত?

হ্যাঁ, সেটা দ্বিতীয় স্তরের ভাবনা। নাটকের মঞ্চায়নের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবি। কেন ১৪০ বছর আগের কাহিনীঅলা এই জাপানি নাটক বেছে নিলো সরকারি প্রতিষ্ঠান? শুধু কি জাপান-বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সম্পর্ক উন্নয়ন?

উনিশ শতকে জাপানে মেইজি শাসনামল নিয়ে যারা জানেন, তারা তো জানেনই, তাও মনে করিয়ে দিই, মেইজিদের কারণে জাপানে বেশ বড় পরিবর্তন আসে, শিল্পায়নে এগিয়ে যায় তারা, এবং তার জের ধরে ১৯০৫ সালে ক্ষমতায় আসে মিলিটারি।

নাগাওকার এ ঘটনাকে আদর্শ হিসেবে প্রচার করতেন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুনিচিরো কোইজুমি।

বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারও কি সেই নীতি সমর্থন করতে বলে?

এর একটা উত্তর পাই নাটক মঞ্চস্থ হবার আগে দেয়া বক্তব্য থেকে। দুর্নীতি দমন কমিশনের সচিব মো: মোখলেস উর রহমান এসেছেন প্রধান অতিথি হয়ে, আগেরবার মঞ্চায়নেও তিনি বক্তৃতা দিয়েছেন। তাঁর দেখা ভালোলাগা নাটক এটি। দর্শকদের বললেন, নাটকটি অনেক আগের হলেও এ সময়ের জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। এই যে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে, এবং বাড়ছেই, তা যেন আমরা সহ্য করি দাঁতে দাঁত চেপে। নয়তো দুর্নীতি দমবে না, সুনীতি প্রতিষ্ঠা হবে না।

তারপর শুরু হলো আমলাবাজি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গান গাইলেন। বিশ্বাসযোগ্যতা আনতে স্বর ওঠানামা করে কোরআনের আয়াত দিলেন। দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের উদাহরণ দিতে মকবুল ফিদা হুসেনের সাম্প্রতিক প্রেম টানলেন, ভারতের এপিজে আবদুল কালাম পাড়লেন। উঁচু রসবোধের প্রমাণ দিতে গিয়ে অভিনেত্রী শাবনূর নিয়েও কি এক ফোড়ন কাটলেন। সেই সাথে মাইক্রোফোনকে সাক্ষী রেখে হাসির মতো শব্দ করলেন অনেকবার।

নাটকটা দেখবো বলে প্রায় ঘণ্টাখানেক দাঁতে দাঁত চেপে এসব সহ্য করেছি!

আর দেখুন, নাটক দেখে সহ্যক্ষমতা আরও বাড়ছে আমার। এভাবে বাড়তে থাকলে কাঁচামরিচের ২০০ টাকা কেজি দর অথবা তিন দিন বিদ্যুৎহীনতায় ডেসার নিস্পৃহ মনোভাব-- কোনো ব্যাপার না, পানিভাত!

এবং তারপর দুম করে আমরা একদিন সামুরাই হয়ে যাবো, আর বাংলাদেশি স্টাইলে মাথা নত করবো প্রধান উপদেষ্টার কাছে।

তবু শেষ হবে তো এ নাটক?

ইশতিয়াক জিকো / ৪ আগস্ট ২০০৭, ঢাকা
_____________
ছবিসূত্র : নিউ এজ পত্রিকা

দিনলিপি : বন্যা, বিদ্যুৎহীন, কাঁচামরিচ

১.
ঢাকার পূর্বাঞ্চলে বসবাস, বাঁধের বাইরে, বন্যার পানি তাই বাড়ির সীমানায়। ভাবতে ভালো লাগছে, প্রতিবারের মতো এবারও 'বন্যাকবলিত' হবার সুনামটা ধরে রাখতে পারবো। তবে যত যাই হোক, মিডিয়ার চোখে আমরা 'বন্যার্ত' বা 'বানভাসি' হই না। দুর্জনদের প্রলাপ, এটা নাকি আর্থসামাজিক অবস্থানগত কারণ।

ঠোঁট উল্টাই। এত বুঝে কাজ নাই।

২.
এ মাসের প্রথম দিন, টানা নয় ঘণ্টা ছিলাম বিদ্যুৎহীন। যে এলাকায় থাকি, সেখানে নয় ঘণ্টার হিসাব এমন কিছু না, পত্রিকার খবর হতে গেলে টানা প্রায় তিন দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়, যেমনটা থেকেছি সপ্তাহখানেক আগে। ফলাফল, তিন নম্বর পৃষ্ঠায় দুই কলামের খবর, তাও বিদ্যুৎ আসার এক দিন পর, তবু তো ছেপেছে, কৃতজ্ঞতা জানাই, কারণ এমনিতে যা কিছু ভাআলো, শুধু তার সঙ্গেই থাকেন কিনা তারা।

ফুলস্পিডে ফ্যান ঘোরে। এত বুঝে কাজ নাই।

৩.
গতকাল কাঁচামরিচ কিনেছি ২০০ টাকা কেজি দরে। ভালো। পাঁচদিন আগে ছিল ৮০ টাকা কেজি। বিজ্ঞজনের খিস্তি : এইসব সো-কল্ড মধ্যবিত্তের হুতাশ, সাময়িক আহাজারি, ফুকো রুদ্দি পোন দানোর ফল আর এখন ব্লগে লেখার আইটেম। আরও ভালো।

মাথা চুলকাই। এত বুঝে কাজ নাই।